ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি দুর্বল করবে বাংলাদেশকে

ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি  দুর্বল করবে বাংলাদেশকে
×

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি বাংলাদেশের এগিয়ে চলার পথে অন্তরায় তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। 

তিনি বলেছেন, ধর্মভিত্তিক যে বিভাজনের রাজনীতি চলছে, এটা শেষ বিচারে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সমাজকে দুর্বল করবে। ধর্মভিত্তিক বা জাতিগত পরিচয়ের রাজনীতি আগামী দিনে দেশের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক অবস্থানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্পর্ককেও দুর্বল করবে। 

গতকাল রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে এক গোলটেবিল সংলাপে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন। ‘সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার: বর্তমান বাস্তবতা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। 

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশে এখন নিরাপত্তা বোধের অভাব শুধু ধর্মীয় সংখ্যালঘু বা জাতিগত সংখ্যালঘুর মধ্যে সীমিত নেই। নিরাপত্তা বোধের অভাব নারী, মাজার ও সুফির মতো দার্শনিক চিন্তাভাবনার মানুষ, ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটি, আহমদিয়া সম্প্রদায় ইত্যাদি অনেকের জন্যও সত্য। এটা একটা সার্বিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। 

দেশে ফেরার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তৃতায় নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে কথা বলা হয়েছে, সেটা তুলে ধরে ড. দেবপ্রিয় বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে সামনে আনার উপলব্ধিটা সঠিক। নিরাপদ বাংলাদেশ করার ক্ষেত্রে নির্বাচন-পূর্ব এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পদক্ষেপ কী হবে, এটা এখন বোঝার বিষয়। তারেক রহমান মার্টিন লুথার কিংয়ের শব্দকে নিজের মতো করে বলেছেন। তাঁর প্ল্যানের (উই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান) ভেতর ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অবস্থান কী হবে? মানবাধিকারের ভিত্তিতে দেশে একটি নাগরিক সমাজ গড়ে উঠবে– এ কথা কি থাকবে? 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ 
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের এই আহ্বায়ক বলেন, আন্দোলনকারীদের একটি স্লোগান তাঁর মনে নাড়া দিয়েছে। সেটি হচ্ছে, ‘সুশীলতার দিন শেষ, জবাব চায় বাংলাদেশ’। বাংলাদেশ শুধু এই জবাব চায় না, হাদির হত্যাকারীদের বিচার হোক। এই জবাবও চায়, তার নিজস্ব নাগরিকদের অধিকার কীভাবে রক্ষিত হবে? যে নারীকে অত্যাচার করা হয় শুধু তার পোশাকের জন্য, তার বিচারটা কী হবে? যে বাউলগান গাইতে পারে না, তার অধিকারটা কী হবে– এসবের জবাব দিতে হবে। 
সংলাপে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কর্তৃত্ববাদের পতন না হলে সব নাগরিকের সমঅধিকার ও সমমর্যাদা সব সময় উপেক্ষিত হতে থাকবে। কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার তার অঙ্গীকার পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমরা কেউ নিরাপদ নই। 

সব ধরনের কালাকানুন অনতিবিলম্বে বাতিল করার আহ্বান জানিয়ে গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে কোনো কোনো গোষ্ঠী ধর্মের যথেচ্ছ ব্যবহার করছে, সংখ্যালঘু নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় বা যে কোনো ধরনের নির্বাচনে পক্ষ বা বিপক্ষে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে টার্গেট হুমকি, হামলা ও নির্যাতনের শিকার করা হচ্ছে। 

মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া 
মোসলেম বলেন, সাম্প্রদায়িকতাকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে যারা ব্যবহার করছে, তারা মূলত ফ্যাসিবাদকে সরিয়ে মৌলবাদকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে সংখ্যালঘু নারীদের আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন। 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের পর নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি কোনো ধরনের আইনি সুরক্ষা পাচ্ছে না। ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’– এই বয়ান সামনে রেখে দিপু দাসের ওপর নগ্ন হামলা, নির্যাতন এবং মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য শরীরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এগুলো শুধু অমানবিক নয়, মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। 
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিওর সভাপতিত্বে ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রঞ্জন কর্মকারের সঞ্চালনায় সংলাপে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ। আরও বক্তব্য দেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এম এ আজিজ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিক, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, সনাতন পার্টির সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার রায়, খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হেমন্ত আই কোড়াইয়া।

আরও পড়ুন

×