ফিরে দেখা ২০২৫
বছরজুড়ে আদানির সঙ্গে বিরোধ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৮:০০
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বছরজুড়ে অনেকটাই স্থবির ছিল। বছরের আলোচিত ঘটনার মধ্যে রয়েছে ভারতে আদানি গ্রুপের সঙ্গে কয়লার দাম নিয়ে বিরোধ। এ ছাড়া পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সংস্কার নিয়ে আন্দোলন, আওয়ামী লীগের আমলে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন প্রকল্পের চুক্তি পর্যালোচনা, স্থলভাগে কয়েকটি কূপ খনন, দরপত্রে আটকা সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধান আর সৌর প্রকল্পে উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহেই কেটেছে ২০২৫ সাল।
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ালেও চাহিদা কম থাকায় এ বছরও ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা টানতে হয়েছে সরকারকে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদনে সংযমী অবস্থানের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়।
এ বছর বিশেষ আলোচনায় ছিল ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি। কয়লার দাম নিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং আদানির মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। এটা নিয়ে বছরজুড়ে আলোচনা, চিঠি আদান প্রদান হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। দেশের আদালতে এ নিয়ে মামলা চলমান। তবে আদানি বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে নিতে চায়। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যে পাওনা নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকিও দিয়েছিল ভারতীয় গ্রুপটি।
এদিকে আদানিসহ আওয়ামী লীগ আমলে চুক্তি করা বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর উচ্চমূল্য, বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ ও দীর্ঘমেয়াদি দায় নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় অন্তর্বর্তী সরকার উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে বড় বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলোর ব্যয় ও ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে এই বছর উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। অর্থ পরিশোধে জটিলতা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এবং সঞ্চালন লাইন বিলম্বের কারণে উৎপাদন শুরুর সময়সূচি অনিশ্চিত ছিল। শেষ পর্যন্ত সঞ্চালন লাইন প্রস্তুত হলেও কেন্দ্রর উৎপাদন শুরু করা যায়নি। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রকল্পটি ঝুলে রয়েছে। এ ছাড়া নিয়োগ নিয়ে জটিলতায় ভুগছে রূপপুর প্রকল্প।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। চাকরির শর্ত ও বৈষম্যের অভিযোগে আন্দোলনের পর গঠিত সরকারি কমিটি কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। গ্যাসের সংকট থাকলেও গরমের প্রভাব কম থাকায় লোডশেডিং নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে কম।
সরকার একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও আগ্রহী উদ্যোক্তা না পাওয়ায় সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ এ বছরও শুরু করতে পারেনি। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে পাঁচ হাজার ২৩৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এ খাতেও উদ্যোক্তাদের আগ্রহ ছিল কম।
