ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

নজরুল মজুমদারসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুদক 

এক্সিম ব্যাংকের ৬১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নজরুল মজুমদারসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুদক 
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২:৪৩

ঋণের নামে এক্সিম ব্যাংকের ৬১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার কমিশন এ চার্জশিটের অনুমোদন দেয়। শিগগির এটি আদালতে জমা দেওয়া হবে। 

মঙ্গলবার দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। ওই অভিযোগে গত বছরের ২০ আগস্ট নজরুলসহ ৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছিল দুদক। মামলাটি তদন্ত করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল-আমিন। তিনিই চার্জশিটটি পেশ করবেন। 

দুদকের তদন্ত থেকে জানা গেছে, ফ্লামিংগো এন্টারপ্রাইজ নামের অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অবস্থা যাচাই-পরিদর্শন না করে, কোনো সহায়ক জামানত ছাড়াই ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ ওই অর্থ বিতরণ করা হয়। বিতরণ ঋণের মাধ্যমে ক্রয় করা আমদানীকৃত পণ্য সরেজমিন পরিদর্শন ও স্টক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়নি। এ ঋণের কোনো রি-পেমেন্ট বা এটি প্রকৃত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি। কাগুজে লেনদেন করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে ঋণের অর্থ ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়– এমন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা করা হয়।

এ ক্ষেত্রে নাসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে নগদ জমা বা ট্রান্সফার করে নজরুল ইসলাম মজুমদারের পক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে পে-অর্ডার করা হয়। বিষয়টি এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তারা জানার পরও নিজেরা লাভবান হয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ মঞ্জুরিপত্রের শর্ত সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছেন। এক্সিম ব্যাংকের ইনভেস্টমেন্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পলিসি গাইডলাইনস ও শরিয়াহ অনুসরণ না করে পারস্পরিক যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধমূলক অসদাচরণ ও বিশ্বাসভঙ্গ করে অবৈধভাবে ৬১৫ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

আত্মসাৎ করা টাকার অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা গোপনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর ও রূপান্তর, হস্তান্তর করে আসামিরা দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মানি লন্ডারিং আইন শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। 

চার্জশিটে অন্য আসামিরা হলেন– নজরুল ইসলাম মজুমদারের স্ত্রী ও এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক নাসরিন ইসলাম, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা ইসলাম, পরিচালক নুরুল আমিন ও অঞ্জন কুমার সাহা; সাবেক পরিচালক নজরুল ইসলাম স্বপন, মো. আব্দুল্লাহ ও মো. নাজমুস ছালেহিন; সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক মিয়া মোহাম্মদ কাওছার আলম, নাসা বেসিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালিদ ইবনে ইসলাম, ফ্লামিংগো এন্টারপ্রাইজের মালিক মোশারফ হোসেন, মদিনা ডেটস অ্যান্ড নাটসের মালিক মোজাম্মেল হোসাইন ও জান্নাত এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। 

আসামির তালিকায় থাকা এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তারা হলেন– ঢাকার গুলশান শাখার ম্যানেজার (এসভিপি) মোহাম্মদ আশরাফুল হক, এভিপি অ্যান্ড সেকেন্ড অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক এসপিও অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অফিসার হুমায়ুন কাদের হিমু, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক ম্যানেজার মনোয়ার হোসেন, সাবেক এসভিপি মেফতা উদ্দিন খান, প্রিন্সিপাল অফিসার শহিদুল ইসলাম, ইনভেস্টমেন্ট রিলেশনশিপ অফিসার শিরিনা আকতার, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আরমান হোসেন, সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আনিছুল আলম, অ্যাডিশনাল ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ইছরাইল খান, মঈদুল ইসলাম, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাকসুদা খানম, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, সাবেক অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহ মো. আব্দুল বারি, হুমায়ুন কবীর ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ হোসেন। 
এমএনসি অ্যাপারেলস লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবুল কালাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কিত যথাযথ প্রমাণ না পাওয়ায় চার্জশিটে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তদন্তকালে অভিযোগ সম্পর্কে প্রমাণ পাওয়া যায় ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ডিএমডি (আইআরএমডি-২) শামীম ফারুকের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; অর্থাৎ মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, সেই তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। 

আরও পড়ুন

×