ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বাহরাইনের ডাক বিভাগ খতিয়ে দেখছে: ইসি সচিব

পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল

বাহরাইনের ডাক বিভাগ খতিয়ে  দেখছে: ইসি সচিব
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০০

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাহরাইনে প্রবাসীদের কাছে পাঠানো ১৬০টি পোস্টাল ব্যালট এক জায়গায় থাকা এবং এর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি বলছে, বাহরাইনের কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার আনন্দের বহিঃপ্রকাশের কারণেই ভিডিও করার ঘটনাটি ঘটেছে। বাহরাইনের ডাক বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।      

গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘বাহরাইনে বাংলাদেশি ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটের খাম বণ্টনের ভিডিও কীভাবে ঘটল, তা সরেজমিন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দেশটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সেখানকার ডাক বিভাগকে জানিয়েছেন। তবে ডেলিভারি পয়েন্ট থেকে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালট পেয়ে আনন্দে এ ধরনের ভিডিও করা উচিত হয়নি।’

এর আগে ত্রয়োদশ সংসদ ও গণভোটের জন্য নিবন্ধিত সাড়ে সাত লাখেরও বেশি প্রবাসীর ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পেপারসহ খাম পাঠায় ইসি। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তারা ভোট দিয়ে ফেরত খামে এই পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে পাঠাবেন। তবে এর আগেই বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালটের খাম ভাগাভাগির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে দেশের সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। মঙ্গলবার ইসিতে গিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকেও এ নিয়ে অভিযোগ করা হয়। 

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসি  সচিব আরও বলেন, ‘ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠাচ্ছে ইসি। পোস্টাল সিস্টেম একেক দেশে একেকরকম, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের। বাহরাইনের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, সেখানে ১৬০টি পোস্টাল ব্যালট ডেলিভারি পয়েন্ট থেকে কোনো এক জায়গায় বক্সে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রজীবনে হোস্টেলে যেমন একটা জায়গায় চিঠিপত্র রেখে যেত একটা টেবিলের ওপরে, আমরা সেখান থেকে নিজেরা নিজেরা নিয়ে নিতাম।’ 
তিনি বলেন, ‘বাহরাইনে সেরকমই একটা বক্সে ১৬০টি ব্যালট দিয়ে গেছে। ওই বক্সটা যখন চার-পাঁচজন প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই খুলেছেন এবং তখন তারাই বলেছেন, ওটা ভাগাভাগি করে যে আমার পাশের ঘরে থাকে, আমি এটা নিচ্ছি। আমি ওটা পৌঁছে দেব। সেটাই হয়তোবা পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার আনন্দটুকু ধরে রাখার জন্য কেউ একজন ভিডিও করেছেন, তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। তবে ভিডিও ক্লিপটা খেয়াল করে দেখবেন– পোস্টাল ব্যালটের খাম দেখা যাচ্ছে এবং খামগুলো খোলাও হয়নি। যদিও ভিডিওটা করা উচিত হয়নি বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।’ 

আখতার আহমেদ বলেন, তৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বাহরাইন ডাক বিভাগকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে বলা হয়েছে, এটা তো তাদের কাছ থেকে করা হয়নি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও বিষয়টি দেখছেন। আর বাহরাইন ডাক বিভাগ সরেজমিন তদন্ত করে জানাবে যে, এটা কেন ঘটল, যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে পোস্টাল ব্যালটের খাম বিলি করা হয়েছে কিনা, কোনো ব্যতিক্রম হয়েছে কিনা। এই জিনিসগুলো তারা আমাদের তদন্ত করে জানাবে। এটাই হচ্ছে ইসির সর্বশেষ অবস্থান।

দুই পৃষ্ঠার পোস্টাল ব্যালটে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’ ভাঁজের মধ্যে পড়ে যাওয়া-সংক্রান্ত দলটির অভিযোগ প্রসঙ্গে ইসি সচিব জানান, পোস্টাল ব্যালট পেপার ছাপানোর ক্ষেত্রে সরকারি গেজেটের ক্রমধারা বা ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইট ইজ এ মিসটেক, আমি (এখনই বিস্তারিত) বলতে পারব না। কারণ ছাপানোর দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের কাছ থেকে না জেনে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে যতটুকু জানা আছে, সরকারিভাবে নির্বাচনী প্রতীকের যে গেজেট পাবলিশ করা হয়েছে, সেই গেজেটের ধারাবাহিকতা বা অর্ডার অনুযায়ী ব্যালটে প্রতীকগুলোকে সাজানো হয়েছে।’
এর আগে মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধানের শীষ প্রতীকটি ব্যালটের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়েছে, যা ভাঁজ করলে সহজে নজরে আসে না। দলটির পক্ষ থেকে এখনও পাঠানো হয়নি– এমন ব্যালটগুলো সংশোধন করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ অবস্থায় ব্যালট ফের ছাপা হবে কিনা– জানতে চাইলে সচিব বলেন, এটি নিয়ে এখনই মন্তব্য করা যাবে না। কমিশন সভায় আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু ২২ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আওতায় আট লাখের বেশি নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে এ প্রশিক্ষণ শুরু হবে। 
গতকাল বুধবার নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। এটি চলবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
 

আরও পড়ুন

×