পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানালেন
নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশিদের প্রবেশ সীমিত করছে সরকার
মো. তৌহিদ হোসেন
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৩৬ | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
নির্বাচনে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অন অ্যারাইভাল ভিসায় শর্ত জুড়ে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক মাসের জন্য এই অনঅ্যারাইভাল ভিসায় শর্ত যুক্ত থাকবে।
গতকাল বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, এ বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলতে পারবে, পররাষ্ট্রকে এ রকম একটা নির্দেশনা দেওয়া আছে। আসলে নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। যারা কাম্য নন, তারা এসে হাজির হয়ে যেতে পারেন। আমরা সব ভিসা তো বন্ধ করছি না। ভিসা নিয়ে আসুন, যদি আসতে চান।
মার্কিন ‘থিঙ্ক টুয়াইস’ আইনের মধ্যে চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষায় সম্পর্ক বাড়ানো নিয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিমানবাহিনীর কথাই ধরুন, আমাদের বিমানগুলো সবই অত্যন্ত পুরোনো। অনেকগুলো ঠিক করে চালানোর অবস্থায়ও নেই। কাজেই আমাদের অন্তত কিছু ক্রয় করতে হবে। এগুলো কোথা থেকে করা হবে, কোন দেশ থেকে কতটা কী আনা হবে, এগুলো নিয়ে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়। আমরা অবশ্যই এমন কিছু করব না, যাতে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। আমরা একটা ভারসাম্য বজায় রেখে করব।
ফিলিস্তিনের গাজায় সৈন্য পাঠানো নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাজায় যে আমরা সৈন্য পাঠাবো, সে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। নীতিগত সিদ্ধান্তের অর্থ হচ্ছে, এটি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। এখনও কোনো কিছু ঠিক হয়নি, যে কারা থাকবে, কারা থাকবে না। তিনটি শর্তের কথা বলা হয়েছে। যে কোনো অবস্থাতেই কিন্তু আমরা এই পরিবেশ সৃষ্টি না হলে যাব না। এক. বাংলাদেশ ওখানে লড়াই করতে যাবে না। দুই. ওখানে এমন কোন কর্তৃপক্ষ থাকবে, যাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ করা বা কথাবার্তা বলা সম্ভব না–সেক্ষেত্রে আমরা যাব না। আমাদের শর্তগুলো মোটামুটি পরিষ্কার। এরপর আমরা চিন্তা ভাবনা করব। তবে তিন নম্বর শর্ত জানাননি উপদেষ্টা।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এ বিষয়ে কথা বলার কোনো দরকার রয়েছে কিনা প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ দিকে চলে এসেছে। সরকার কিন্তু থাকছে। তার মানে কিছু ব্যক্তি চলে যাবেন, আরও কিছু ব্যক্তি এসে সেই স্থান নেবেন। দেশের যোগাযোগ ও স্বার্থ কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন হয়ে যায় না। আমরা এমন কিছু করব না বা করছি না, যেটি এই সরকার সরে গেলে একেবারে পরবর্তী সরকার এসে সব উল্টেপাল্টে দেবে। সরকার যে পরিবর্তন হবে, সেটি খুবই মসৃণ পরিবর্তন হবে। আমরা যে কাজগুলো করছি, সেটি আমরা গুছিয়ে রাখছি, যতটুকু সম্ভব।
আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আরাকান আর্মিকে মিয়ানমার সরকার বৈধ বলে স্বীকার করে না। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে না। বৈধ না এমন কারও সঙ্গে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যোগাযোগ করতে পারে না, করবেও না। আর মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক ত্যাগ করেনি।
মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি সমস্যা যেটি একদিনে শুরু হয়নি, একদিনে শেষ হয়ে যাবে না। বেসরকারি মানুষ হিসেবে শুরুতে বলেছিলাম, (রোহিঙ্গা) সমস্যাটা যেভাবে চিন্তা করা হচ্ছে যে, দুই চার মাস বা এক দুই বছরের মধ্যে সমাধান করে ফেলা হবে, তখন বলেছিলাম যে এটি হবে না। এটি যে ধরনের সমস্যা, তাতে করে দীর্ঘ সময় লাগবে। এটা অনেক সময় লাগবে এবং অনেক কিছু পরিবর্তন হবে এবং আমাদের আরও দীর্ঘ সময় প্রস্তুতি নিয়েই এগোতে হবেব; যাতে করে সমস্যার আমরা সমাধান করতে পারি। সে চেষ্টা চলছে।
বাহরাইনে জামায়াতের নেতার কাছে থাকা অনেক পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টিতে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। দেখা যাক আসলে ফলাফল কী দাঁড়ায়। প্রথমবারের মতো আমরা পোস্টাল ব্যালটের চেষ্টা করছি। সে তুলনায় পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যাটা একেবারে কম না। ভারতের মতো এত বড় দেশে প্রায় একই সংখ্যা ১৫ লাখ। আমাদের যারা রাজনীতির ক্ষেত্রে বিচরণ করেন, তারা সবাই পূর্ণাঙ্গ মানুষ না। কেউ এটিকে অপব্যবহার করার চেষ্টা করবে, এটিতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের চেষ্টা করতে হবে যেন অপব্যবহার না হয়। পোস্টাল ব্যালট মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। তারপর সেখান থেকে তারা ভোট দিয়ে পোস্ট করে পাঠিয়ে দেবেন। দূতাবাসের ভূমিকা যে খুব বেশি তা কিন্তু নয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ) নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি একটা নীতিগত অবস্থান, আমরা দুই পক্ষ মিলে ঠিক করছি। এটি কালকে সই হয়ে যাবে–বিষয়টি এমন নয়। আরও দুটো ধাপ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় বেশ সময় লাগবে। দু’পক্ষের নিজ নিজ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হওয়ার পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সই করবে। আমি আশা করি যে, আমার উত্তরাধিকারী যিনি হবেন, তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যে করতে পারবেন।
