বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে অভিযান
নদী তীর ধরে হেঁটে ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবেন টনি
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২:১৮
নদীর অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানির বিস্তারের প্রতিবাদে ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকা থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত দেশব্যাপী ব্যতিক্রমধর্মী ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং অভিযান শুরু হচ্ছে আগামী শনিবার থেকে।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ এবং ‘বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব’ যৌথভাবে এ অভিযানের আয়োজন করেছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে “নদীতে প্রাণের কান্না: বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াও” শীর্ষক এই হাইকিং অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। আগামী ২৪ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া এ অভিযানে অভিযাত্রী মাসফিকুল হাসান টনি এককভাবে অংশ নেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাসফিকুল হাসান টনি কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারির চর ইটালুকান্দা (ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকা) থেকে যাত্রা শুরু করে নদীপথ ও নদী তীরবর্তী অঞ্চল ধরে প্রায় ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ভোলা জেলার চরফ্যাশনের চর কুকরি-মুকরিতে (বঙ্গোপসাগর উপকূল) গিয়ে এই পদযাত্রা সম্পন্ন করবেন।
আয়োজকরা বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থা, নদী অববাহিকা এবং এসব এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অথচ নদী ও জলাশয় রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। বরং জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক কয়লা ও গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জলবায়ু সংকটকে আরও তীব্র করবে। এই প্রেক্ষাপটে নদীর অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদ জানাতে এ হাইকিং অভিযানের আয়োজন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযাত্রাপথে দেশের বিভিন্ন নদী তীরবর্তী অঞ্চলের স্থানীয় জনপদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা পরিবেশ ও জলবায়ু বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে সংহতি প্রকাশ করবেন। আয়োজকদের আশা, এই অভিযান দেশের পরিবেশ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে। এই অভিযানের গিয়ার পার্টনার হিসেবে রয়েছে Peak 69।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’র উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। স্বাগত বক্তব্য দেন এভারেস্টজয়ী অভিযাত্রী ও বিএমটিসি-এর সভাপতি ইকরামুল হাসান শাকিল। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ধরা’র সদস্য সচিব শরীফ জামিল এবং অভিযাত্রী মাসফিকুল হাসান টনি।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নদী একটি জীবন্ত সত্তা। নদী রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। নদীর অবনতি ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের বিরুদ্ধে এই একক পদযাত্রা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তিনি অভিযাত্রাটি নিরাপদ ও সুস্থভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
শরীফ জামিল বলেন, নদীর স্বাস্থ্য খারাপ হলে দেশের পরিবেশও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে দেশের কোনো নদীর অবস্থাই ভালো নয়। তাই নদীর অবনতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা জীবাশ্ম জ্বালানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং আমাদের স্লোগান— ‘জনসাধারণকে না জানিয়ে কোনো এনার্জি পরিকল্পনা করা যাবে না’।
অভিযাত্রী মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারাটা আমার জন্য গর্বের। এই যাত্রার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পরিবেশ ও নদী রক্ষার সচেতনতা তৈরি করতে চাই।
রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন বলেন, আমাদের নদীগুলো উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত; আর আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা পূর্ব-পশ্চিমে প্রসারিত। অর্থ্যাৎ নদীর সঙ্গে উন্নয়নের আড়ি, কাটাকাটি খেলা। আমরা সব সময় উন্নয়নের নামে নদী ক্রস করতে চেয়েছি, যেমন ব্রিজ ও সড়ক বানিয়েছি। আর টনি যে নদীর পাড় ধরে সোজা যাচ্ছেন, তার একটা প্রতীকী এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আমার কাছে ধরা পড়ে। টনি নদীর সমান্তরালে যাচ্ছেন। এই অভিযাত্রার মধ্য দিয়ে আমাদের ভ্রান্ত উন্নয়ন ধারণার বিষয়টিও উঠে আসবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমটিসি-এর প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক, ধরা’র সহ-আহ্বায়ক এম. এস. সিদ্দিকী, সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চ-এর পরিচালক মো. শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী, রিভারাইন পিপল-এর সাধারণ সম্পাদক শেখ রোকন, Peak 69-এর স্বত্বাধিকারী হানিয়াম মারিয়া রাকা, রিভার বাংলা’র সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, বিএমটিসি-এর সাধারণ সম্পাদক সাদিয়া সুলতানা, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, ওএবি ফাউন্ডেশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান তুহিন, ব্রাইটার্স-এর পরিচালকসহ বিভিন্ন পরিবেশ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও পরিবেশকর্মীরা।
- বিষয় :
- নদী সুরক্ষা
- জলবায়ু পরিবর্তন
- পদযাত্রা
