ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সভায় ফরহাদ মজহার

জামায়াত-যুক্তরাষ্ট্র নীতিগত সম্পর্ক অশনিসংকেত

জামায়াত-যুক্তরাষ্ট্র নীতিগত সম্পর্ক অশনিসংকেত
×

ফরহাদ মজহার

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত যোগাযোগ দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য ভয়াবহ ইঙ্গিত বহন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তাঁর মতে, এই যোগাযোগ কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য বা আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নয়; বরং এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক শক্তির একটি সুস্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে দেশের জন্য ভয়ংকর অশনিসংকেত।

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দেশব্যাপী গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট: নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভার প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেন তিনি। সভাটির আয়োজন করে গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চ।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ মজহার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় এলে শরিয়াহভিত্তিক কোনো নীতি চাপিয়ে দিলে বা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি সিদ্ধান্ত নিলে সে ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো হবে– তা নিয়েও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। ফরহাদ মজহারের মতে, এ থেকেই বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্র ও জামায়াতের মধ্যে একটি নীতিগত বোঝাপড়ার জায়গা ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে বলেই যুক্তরাষ্ট্র আগাম বার্তা দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে একটি শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বিশিষ্ট এই চিন্তক বলেন, বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক আইন কার্যকর কোনো শক্তি হিসেবে আর টিকে নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক আচরণ আন্তর্জাতিক আইনের দুর্বলতার বড় উদাহরণ।
ভারতীয় প্রভাবের প্রসঙ্গ টেনে ফরহাদ মজহার বলেন, দেশে অনেক রাজনৈতিক শক্তি প্রকাশ্যে ভারতবিরোধী বক্তব্য দিলেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে তেমন উচ্চকণ্ঠ আলোচনা চোখে পড়ে না। এটি রাজনৈতিক অবস্থানের দ্বৈত মানসিকতার প্রকাশ।

আলোচকদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন আহমেদ ফেরদৌস, ভাববৈঠকীর সংগঠক মোহাম্মদ রোমেল। বক্তারা গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের ভূমিকা, নাগরিক সমাজের দায়িত্ব এবং জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

×