নির্বাচনের পর বাংলাদেশ-ইইউ পিসিএ সই
মানবাধিকার বিষয়ে চাপ প্রয়োগের সুযোগ কমবে ব্রাসেলসের
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:২৮ | আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একমত ঢাকা ও ব্রাসেলস। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুই পক্ষ সই করবে অংশীদারিত্ব সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ)। এই চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি সই করবে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। পিসিএতে মানবাধিকার ইস্যুতে ঢাকার ওপর ব্রাসেলসের চাপ প্রয়োগের কম সুযোগ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে সম্পর্কের পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর নতুন করে ইইউ-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ওই অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউরোপিয়ান কমিশনের (ইসি) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন উপস্থিত ছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির প্রথম দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় পিসিএ চুক্তির আলোচনা স্থগিত করে ইইউ। পরবর্তী সময়ে ইইউ অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে পিসিএ সই করার সিদ্ধান্ত নিলে নভেম্বরে ঢাকায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়। একাধিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে চলা দুপক্ষের দরকষাকষি চলতি মাসে শেষ হয়। ঢাকা ও ব্রাসেলস খসড়া চূড়ান্ত করেছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে এ চুক্তি সই হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ইইউ প্রথম এ ধরনের চুক্তি বাংলাদেশের সঙ্গে করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম। তিনি সমকালকে বলেন, পিসিএর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভেটিং করাতে হবে। ইইউও তাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে সম্মতি নেবে। নির্বাচন-পরবর্তী সময় এটি সই হবে। এ চুক্তির মাধ্যমে দুপক্ষের সম্পর্ক একধাপ এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ও ইইউ সহযোগিতা চুক্তি সই করে ২০০১ সালের মার্চে। এ চুক্তির অন্যতম ভিত্তি ছিল অর্থনীতি, উন্নয়ন, সুশাসন ও মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো। চুক্তিটির মাধ্যমে দুপক্ষের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন হয়েছিল। অস্ত্র বাদে অন্য পণ্য রপ্তানি ইবিএর আওতায় ইইউর বাজারে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নীতিমালা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনকে শক্তিশালী করার বিষয়ে দুপক্ষ সহযোগিতা চুক্তিতে ২০০১ সালে একমত হয়েছিল। তাতে একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা, আইন প্রয়োগে সমতা, ন্যায্য বিচারের অধিকার, যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুসরণ এবং ন্যায়বিচারের অধিকার যুক্ত ছিল।
ইইউর সঙ্গে দরকষাকষির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ২০০১ সালের চুক্তিতে মানবাধিকার ইস্যুতে অনেক বেশি নাক গলানোর সুযোগ দেওয়া ছিল। তবে পিসিএতে সে সুযোগ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পিসিএতে সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে শর্তগুলো যুক্ত করা হয়েছে। শুরুতে ব্রাসেলস বিষয়টিতে কিছুটা খুশি না হলেও পরে তারা এটি মেনে নিয়েছে।
মানবাধিকার নিয়ে পিসিএতে যা থাকছে তা হলো– দুপক্ষই নিয়মিতভাবে মানবাধিকার বিষয়ে সংলাপে বসতে রাজি। দুপক্ষই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও দলিলের কার্যকর বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক ও আইনের শাসন জোরদারকরণ, লিঙ্গসমতা প্রচার এবং সব ধরন ও সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য মোকাবিলায় সহযোগিতা করবে।
ইইউর ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য অনুযায়ী, পিসিএ হলো আইনগত বাধ্যতামূলক চুক্তি, যা ইইউ ও একটি অংশীদার দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে রূপরেখা প্রতিষ্ঠা করে। অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে ইইউ অংশীদার দেশগুলোতে রাজনৈতিক সংলাপ, শান্তি ও নিরাপত্তা, সুশাসন ও মানবাধিকার, বাণিজ্য, অর্থনীতি, আর্থিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয় এর মধ্যে থাকে। এই সহযোগিতার পরিধিতে রয়েছে গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সমর্থন করা।
- বিষয় :
- মানবাধিকার
- ইইউ
