স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি: স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি
বুধবারও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আবুল কালাম আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল দুদক -সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২০ | ০৯:২৫
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্বিতীয় দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের প্রশংসা নিজেই করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আবুল কালাম আজাদ।
তিনি বলেন, 'স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকব হিসেবে আমাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভিন্ন পদে আমার দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা, সততা এবং যোগ্য নেতৃত্ব বিবেচনা করে তার সরকার আমাকে মহাপরিচালকের দায়িত্ব দিয়েছিল। এই পদে চাকরির নিয়মিত মেয়াদ শেষে তিনি আমাকে আরও দু'বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন। আমি যখন আমার সুনাম নষ্ট করার অপপ্রয়াস লক্ষ্য করেছি তখন আত্মসম্মানকেই বড় করে দেখেছি। তাই বিবেকের তাড়নায় মেয়াদ পূর্তির ৯ মাস আগেই স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি।'
করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি, নমুনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট প্রদান ও রোগীদের চিকিৎসার নামে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক এ ডিজিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শেখ ফানাফিল্যার নেতৃত্বে অনুসন্ধান টিমের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
একই দিনে জেকেজির সিইও আরিফ চৌধুরী ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীর প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ১৫ হাজারের বেশি ভুয়া রিপোর্টের মাধ্যমে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়েও ডা. আবুল কালাম আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের উপ-পরিচালক সেলিনা আখতার মনি।
করোনার নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সমালোচনার মুখে সরে যেতে হয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই ডিজিকে। আর নানা দুর্নীতির অভিযোগে রিমান্ড শেষে বর্তমানে কারাগারে আছেন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম। জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সাবেক চিকিৎসক ও জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী এবং তার স্বামী আরিফ চৌধুরীও জেলে আছেন।
এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগার সিএমএসডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বিষয়ে বুধবার স্বাস্থ্যের সাবেক এই ডিজিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদক পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে বিশেষ টিমের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
দুদকের অনুসন্ধান বিষয়ে ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'রিজেন্ট হাসপাতালের বিষয়ে দুদক তদন্ত করছে। সাবেক মহাপরিচালক হিসেবে এই বিষয়ে আমার কাছ থেকে শোনার জন্য দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাগণ আমাকে আসতে অনুরোধ করেছিলেন। আমি সেজন্যই এসেছি। জেকেজির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ে আমি যা জানি তা বলেছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। তাই এই বিষয়ে এখন বেশি কিছু বলা সমীচিন নয়।'
তিনি আরও বলেন, 'বিষয়টি কোভিড নিয়ে। কোভিডের মতো সমস্যাকে অন্য সংক্রামক রোগের মাপকাঠিতে বিচার করা ঠিক নয়। বিশ্বে এই ধরনের স্বাস্থ্য দুর্যোগ অতীতে আসেনি। পৃথিবীর কোনো দেশ একসঙ্গে এমন ভয়াবহ সমস্যায় আগে কখনও পড়েনি। সব দেশই হিমশিম খাচ্ছে। ইউরোপ ও আমেরিকার প্রতিদিনের করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর চিত্র আপনারা লক্ষ্য করছেন। রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্যবিদরা ধারণা করেছিলেন, ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে যদি খুব দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে এদেশে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। মৃত্যুও লাখ ছাড়াতে পারে।'
ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ তিনি সরকারের সব অঙ্গকে সমন্বিতভাবে সক্রিয় করেছেন। তার সময়োপযোগী বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশের করোনা পরিস্থিতি সহনশীল পর্যায়ে রেখেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আমরা স্বেচ্ছাসেবীরা সারাদেশে সর্বশক্তি দিয়ে দিন-রাত কাজ করেছি। আপনারা দেখছেন দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় চলছে। কোভিড রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত হাসপাতাল শয্যা ও অক্সিজেন সরবরাহ আছে। আইসিইউ নিয়ে হাহাকার নেই। বেসরকারি হাসপাতালগুলো কোভিড রোগী ভর্তি করছে। ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বারগুলো খুলেছে।'
এ লিখিত বক্তব্য শেষে রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজির দুর্নীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি চলে যান।