ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে, আশা পররাষ্ট্র উপদেষ্টার

নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে, আশা পররাষ্ট্র উপদেষ্টার
×

কর্মশালায় বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৬:৪৬ | আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২২:৪১

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার প্রত্যাশা করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, কিছু লোক ভোট দিতে যাবে না। এটা সব সময় হয়। প্রতি নির্বাচনে কিছু মানুষ ভোট দিতে যায় না।  এবার কিছু বেশি মানুষ ভোট দিতে যাবে না– এটা আমি বলতে পারব না। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। তবে এবার নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে বলে আমার মনে হয়।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন উপলক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা। ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) সহযোগিতায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) সদস্যদের জন্য নির্বাচনবিষয়ক দুদিনের এক কর্মশালার আয়োজন করে। 

ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতারা গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে সরকার সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবে কিনা– জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, বুঝে না বুঝে ‘না’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন হচ্ছিল। সরকার চায় ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হোক। এটা খুব স্পষ্ট। ‘হ্যাঁ’, ‘না’ ভোট নিয়ে সমস্যা যেটা ছিল জামায়াত, এনসিপি এবং আরও দুয়েকটি দল তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছে। একটু অস্পষ্টতা ছিল বিএনপিকে নিয়ে। দুয়েকজন স্থানীয় নেতা ‘না’-এর পক্ষে বলছিলেন। ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বলছিলেন যে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা, তাদের কণ্ঠ জোরালো ছিল না বলে মনে হয়েছে। এটা আমি ব্যক্তি হিসেবে বলছি, মন্ত্রী বা উপদেষ্টা হিসেবে না। কিন্তু আমার মনে হয়, সেই বিভ্রান্তি দূর হয়ে গেছে। কারণ, বিএনপির চেয়ারম্যান ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জোরালো ও শক্তভাবে বলেছেন। 

তিনি আরও বলেন, তবে আমি মনে করি, মানুষ চারটা শর্ত পড়ে চিন্তাভাবনা করে ভোট দিতে যাবে না। ওই সময়ও নেই, সুযোগও নেই। আসলে তারা ভোট দিতে যাবে পার্টি লাইনে। আমার পার্টি সমর্থন করছে না, কাজেই আমি দেব না। আমার পার্টি সমর্থন করছে, আমি ভোট দেব। প্রধান তিন-চারটি দল সবাই কিন্তু ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। কাজেই আমার মনে হয় না এটা নিয়ে বড় কোনো সমস্যা হবে। 

নির্বাচন নিয়ে কূটনীতিকদের মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করলে উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি দেশেই ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু প্রথা দাঁড়িয়ে যায়। ভারতের যেমন এক ধরনের প্রথা আছে। আমাদের দেশে এক ধরনের প্রথা দাঁড়িয়ে গেছে এবং এটা আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। এখানকার যে কূটনৈতিক সম্প্রদায় আছেন, তারা এই নিয়ে কথাবার্তা বলে এবং আমাদের সমাজেরও একটা বড় অংশ চায় তারা কথা বলুক। কাজেই তাদের আমি দোষ দিতে পারি না। এটা আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পাকিস্তান সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলবে, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি খেলব না। এটা প্রতিটি দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, দেশে কোনো নির্বাচন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হয়নি। কিছু অস্থিরতা আছে, কিছু অস্থিরতা থাকবে। একেকজন একেকভাবে বিষয়টিকে মূল্যায়ন করবে, সেটা আমাদের বিবেচনায় নিলে চলবে না। 

নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রদূতদের নিজ নিজ মিশনে থাকার নির্দেশনা নিয়ে তিনি বলেন, এটা একেবারেই প্রশাসনিক একটা সিদ্ধান্ত। বেশ কিছু রাষ্ট্রদূতের ছুটির দরখাস্ত ছিল। ঠিক এই সময়ে আমরা চাই না তারা ছুটিতে থাকুক। তারা হেডকোয়ার্টারে থাকুক। কারণ, একটা পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। নির্বাচন ঘটতে যাচ্ছে, এই সময়ে তারা যেন স্টেশনে থাকে। এ আদেশের আলাদা কোনো বৈশিষ্ট্য নেই।

নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিরসনে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ আছে। আমরা সেটা সমাধান করার চেষ্টা করছি। এটা যে কোনো নির্বাচনের আগেই থাকে এবং সে রকম আছে। আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি যাতে এগুলো বাড়াবাড়ি না হয়। 

কর্মশালায় জাতিসংঘের উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, নির্বাচনী প্রতিবেদন জাতীয় সীমান্ত ছাড়িয়ে অনেক দূরে বিস্তৃত। বাংলাদেশের সাংবাদিকদের প্রতিবেদনগুলো কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, উন্নয়ন অংশীদার, বিনিয়োগকারী এবং বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যম নিবিড়ভাবে অনুসরণ করে। ফল স্বরূপ, নির্বাচনী বিবরণ আন্তর্জাতিক আস্থা, কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং একটি দেশের ভাবমূর্তি এবং গণতান্ত্রিক পরিপক্বতার ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। এটি কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেদন করা সাংবাদিকদের ওপর একটি বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করে। এর জন্য নির্ভুলতা, নিরপেক্ষতা এবং নৈতিক বিচার অপরিহার্য।

তিনি বলেন, তথ্যের অখণ্ডতা রক্ষা করা সাংবাদিকদের নিজেদের সুরক্ষার চেয়ে অবিচ্ছেদ্য। অনিরাপদ বা প্রতিকূল তথ্য পরিবেশে কাজ করা সাংবাদিকরা অনলাইন এবং অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকির সম্মুখীন হন। নিরাপদ নির্বাচনের জন্য নিরাপদ সাংবাদিক অপরিহার্য। 

ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা ইমরুল কায়েস।

আরও পড়ুন

×