ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বেসামরিক ব্যক্তিদের উঠিয়ে এনে সেলে রাখা অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল: সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম

বেসামরিক ব্যক্তিদের উঠিয়ে এনে সেলে রাখা অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল: সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৭:৩০ | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৭:৩৫

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তারেক রহমানকে বাসা থেকে তুলে এনে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালে মুখ্য নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই। বিভিন্ন সময়ে তারা ভিন্ন মতাবলম্বীর লোকদের উঠিয়ে এনে নিজেদের সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করতো। এর মধ্যে অনেক মন্ত্রী-রাজনৈতিক ব্যক্তিও ছিলেন। বেসামরিক ব্যক্তিদের উঠিয়ে এনে ডিজিএফআইয়ের সেলে রাখা অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। বস্তুত যেকোনো ব্যক্তিকে উঠিয়ে এনে যা ইচ্ছা তা-ই করা যায় ভাবতে শুরু করেন তারা।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জবানবন্দিতে এসব কথা উল্লেখ করেন তিনি। 

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের-১ এ আজ রোববার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

এসময় সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। জবানবন্দিতে সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, ২০০৩ সালে র‌্যাব গঠনের আগে অপারেশন ক্লিন হার্টে অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ওই সময় জিজ্ঞাসাবাদে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন ১২ জন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে ৬০ জন মারা গেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। এই দায়মুক্তি ছিল ‘লাইসেন্স টু কিল’।

এদিন প্রথমে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

গত ১৪ জানুয়ারি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিচ্ছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আগামীকাল সোমবার অবশিষ্ট জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

×