গণমাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীর অনুপ্রবেশ উদ্বেগজনক
সম্পাদক পরিষদের বিবৃতি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
গণমাধ্যমকর্মী ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এ বিষয়ে এক ধরনের শৈথিল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
গতকাল এক বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর এবং সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা লক্ষ্য করছি, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও গণমাধ্যমকর্মী ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বাহিনী এবং সরকারের এক ধরনের শৈথিল্য বিদ্যমান। আসছে নির্বাচনকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এই আচরণ আরও স্পষ্ট হচ্ছে। গত শনিবার এক নিবন্ধিত ডিজিটাল গণমাধ্যমের কার্যালয়ে সেনাসদস্যদের অনুপ্রবেশের ঘটনাটি উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বা সংবাদ পরিবেশনে ব্যত্যয় ঘটে থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করাই ছিল প্রত্যাশিত। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সম্পাদক পরিষদ উল্লেখ করে, বিগত শাসনামলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টার কথা সরকার, সেনাপ্রধান এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের কাছ থেকে গত দেড় বছর ধরে শোনা গেলেও বাস্তবে এ ধরনের ঘটনা নির্বাচনের আগে সাধারণ ভোটার ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটি মনে করে, ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কিছু জায়গায় জবাবদিহিহীন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগে কিছু অস্বীকৃত ও অননুমোদিত প্ল্যাটফর্ম থেকে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা আগামী নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে ব্যাহত করছে। এই প্রেক্ষাপটে সম্পাদক পরিষদ একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সকল গণমাধ্যমকর্মীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে।
রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকায় শনিবার রাতে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলাদেশ টাইমসের কার্যালয় থেকে সেনাসদস্যরা ২১ সংবাদকর্মীকে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন গণমাধ্যমটির কর্মীরা। পরে দুই ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
- বিষয় :
- সম্পাদক পরিষদের বৈঠক
