ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম-১২ আসন

উৎসবের ভোটে কেন্দ্রে কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন

উৎসবের ভোটে কেন্দ্রে কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন
×

পটিয়া পৌরসদরের পাইকপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নারী ভোটারদের দীর্ঘ সারি - সমকাল

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৮:৪৫

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বৃহস্পতিবার দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ। সকাল গড়াতেই বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। কোথাও দীর্ঘ লাইন, কোথাও ধীর-স্থির অপেক্ষা। তবে সামগ্রিকভাবে শান্তিপুর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে পটিয়া পৌর সদরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নারী-পুরুষ ভোটাররা আলাদা সারিতে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। এ কেন্দ্রের মোট ভোটার ৪ হাজার ৯৩৭ জন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক জানান, এই কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দুপুর ৩টা নাগাদ ভোট পড়ে ৫১ শতাংশ।

উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের হুলাইন এ জে চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৭০০ জন। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভোটগ্রহনের ছিল ২০ শতাংশ। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪২ শতাংশ। তিনি বলেন, সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতিও বেড়েছে। 
উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের হরিনখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ভোটার ২ হাজার ৭০০ জন। সকাল থেকে বেলা ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ৯৬২ জন ভোট দেন। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. হারিছুর রহমান জানান, বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট পড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ। 

পৌর সদরের ১ নং ওয়ার্ডের আল্লাই ওখারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ৪ হাজার ৮৫৬ জন। ১০টি বুথে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ৭৯৭ জন, যা মোটের প্রায় ৫৮ শতাংশ। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এবার ব্যালটে দুটি সিল দিতে হচ্ছে, তাই ভোটারদের কিছুটা সময় বেশি লাগছে।’ 

উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের কুসুমপুরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৬৪৬ জন। এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জয়নাল আবেদীন জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত ১ হাজার ৭০৮ জন ভোট দেন, যা প্রায় ৫০ শতাংশ।  শেষ পর্যন্ত ভোটের হার ৬০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। 

ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য ছিল আলাদা ব্যবস্থা। পাইকপাড়া কেন্দ্রে সত্তরোর্ধ্ব এক বৃ্র সহায়তায় বুথে গিয়ে ভোট দেন। ভোট শেষে তিনি বলেন, “এই বয়সে এসে ভোট দিতে পারছি, এটাই বড় কথা। শান্তিতে ভোট দিতে পেরেছি।’ 

ভোটকেন্দ্রের নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। শোভনদন্ডী এলাকার বাসিন্দা শফিউল আজম বলেন, ‘ভোটের আমেজ আছে, তবে আগের মতো কোলাহল নেই। অনেকে চুপচাপ এসে ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছেন।’ উপজেলার দক্ষিণঘাটা গ্রামের হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘নিজের ভোট নিজে দিতে পেরে ভালো লাগছে। পরিবেশ সুন্দর, কোনো ঝামেলা দেখিনি।’ 

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, ভোটারদের জন্য নিরাপদ ও ভয়ভীতিহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহন সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও কোস্টগার্ড বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করেছে। 
 

আরও পড়ুন

×