ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হবিগঞ্জ-১ আসনের ভোটচিত্র

বিদ্রোহী সুজাতের ৬০, রেজার কেন্দ্রে ৩৩ শতাংশ ভোট

বিদ্রোহী সুজাতের ৬০, রেজার কেন্দ্রে ৩৩ শতাংশ ভোট
×

ছবি সংগৃহিত

এম এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৯:১৮

হবিগঞ্জের আলোচিত নির্বাচনী আসন হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) এলাকায় ভোটের পরিস্থিতি আঁচ করা যাচ্ছে দুই প্রার্থীর নিজস্ব কেন্দ্রের পরিসংখ্যানে। কোনো ধরনের অশান্তি ছাড়াই এই আসনে শেষ হয়েছে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম।

সারাদেশের মতো নবীগঞ্জেও সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এই কেন্দ্রে আলোচনায় ছিল ভোটকেন্দ্রে বিএনপির এক প্রবাসী নেতার গন্ডগোলের চেষ্টা ও যৌথ বাহিনীর হাতে তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি। এ ছাড়া আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

হবিগঞ্জ-১ আসনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। নবীগঞ্জ-বাহুবলের প্রায় ৩০টি ভোটকেন্দ্র ঘুরে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এমন চিত্রই দেখা গেছে। এসব কেন্দ্রের মাঝে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার নিজস্ব এলাকার কেন্দ্রে গড়ে ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রেজা কিবরিয়ার বাড়ি গোপলার বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মাত্র ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই পরিসংখ্যান চিন্তার ভাঁজ ফেলছে বিএনপির নেতাকর্মীদের কপালে।

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা, সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়ার মায়ের নামে চরগাঁও শেখ আমিনা বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বিকেল ৩টা ২ মিনিটে আলাপ হয় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হোসেন ঈমামের সঙ্গে। তিনি বলেন, সেখানে এক হাজার ৭৭৭ ভোটের মধ্যে এক হাজার ১০২টি ভোট পড়েছে। প্রার্থীর বাড়ি হিসেবে ওই কেন্দ্রে বেশি ভোটার উপস্থিত হয়েছেন। তাঁর কেন্দ্রে ৫৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।

চরগাঁও গ্রামের তরুণ হাবিবুল হাসান মিসবা বলেন, তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুর মাদ্রাসায় পড়েন। প্রথম ভোট দেওয়ার জন্য এসেছেন। গণভোট দিতে মানুষকে উৎসাহিত করছেন। ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকাল ১০টায় ভোট দিতে আসা জয়নাল মিয়া বলেন, আমি এসে দেখি সম্পূর্ণ খালি, মাত্র ১০ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা অঞ্জন রায় জানান, তাঁর কেন্দ্রে কোনো ধরনের চাপ ছিল না। ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিয়েছেন। রেজা কিবরিয়া বাড়ির কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেননি। কারণ তিনি ঢাকার ভোটার। ভোটকেন্দ্রে থাকা সমিরন বিবি জানান, ১৭ বছর পর মনের আনন্দে ভোট দিতে পেরেছেন।

নবীগঞ্জের ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর ভোটকেন্দ্রে বেলা ১১টা ২১ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, মোট ৩১৮৪ ভোটারের মধ্যে ২৬০ ভোট কাস্ট হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার সময় উক্ত সেন্টারে লন্ডনপ্রবাসী বিএনপির নেতা গোলাম রসুল রাসেল ভোট সেন্টারে এসে অভিযোগ তোলেন, এখানে আলোর স্বল্পতা রয়েছে। এ নিয়ে প্রিসাইডিং অফিসার সুরেশ্বর রায়ের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। 
দুপুর ১টা ১০ মিনিটে তাহিরপুর নয়মৌজা সিনিয়র মাদ্রাসা ভোট সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, ১০ গ্রামের মোট ৩ হাজার ১৭৯ ভোটারের মধ্যে ৬৫০ জন ভোট দিয়েছেন। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর এজেন্ট আব্দুর রকিব বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশে এখানে ভোট হচ্ছে। কোনো ধরনের গন্ডগোল হয়নি। সকালে ভোটার উপস্থিতি ভালো ছিল।

প্রিসাইডিং অফিসার রেজাউল করিম বলেন, তাহিরপুর ভোটকেন্দ্রে ১০টি গ্রামের ভোট রয়েছে। এখানে ২২ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। দুপুর ১২টায় ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ১০টি গ্রামের ভোট রয়েছে মোট ৪ হাজার ৯৮৩টি। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ৯৫০টি। ভোটের হার ২২ শতাংশ বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রদ্বীপ রঞ্জন দাশ।
কুর্শি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মোট ২ হাজার ৫৭৬ ভোটের মধ্যে ৬৬৯টি ভোট পড়েছে। ভোটের পরিমাণে যা ২৬ শতাংশ। শেখ সুজাত মিয়ার নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত সুন্দর, সুষ্ঠুভাবে ভোট হচ্ছে।

রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া জানান, ভোটারদের বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় প্রতিপক্ষরা ভোটারদের হুমকিধমকি দিচ্ছে। বাহুবলের ভাদেশ্বরে বাধা দেওয়া হয়েছে ভোটারদের।

আরও পড়ুন

×