ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের মূল্যায়ন
নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে
পরবর্তী সরকারের প্রতি রাজনীতিতে সকলকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ কমনওয়েলথের
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন গতকাল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক মূল্যায়নে প্রতিবেদন প্রকাশ করে -সমকাল
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্ভরযোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে, যা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নির্বাচনের আইনি কাঠামো অনেকাংশেই আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল। গতকাল শনিবার নির্বাচন-পরবর্তী প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইউরোপীয় সংসদের সদস্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস।
তিনি বলেন, নির্বাচন ছিল সুশৃঙ্খল, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ। তবে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। এ ছাড়া কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে ‘মব’ হামলার আশঙ্কা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। ইতিবাচক উদ্যোগ না থাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুরা এখনও রাজনৈতিক পরিসরে পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্বের সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকার প্রভাব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বাদ পড়ার প্রশ্নে বলতে চাই, আমরা এখানে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি। আমাদের আগ্রহ হলো নির্বাচন প্রক্রিয়ায়। ইউরোপসহ বিশ্বের অনেক দেশে অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচার একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং সংবেদনশীল বিষয়। তবে নির্বাচন এগিয়ে যাওয়ার উপায়। তিনি বলেন, অবশ্যই এ নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এগিয়ে যাওয়ার পথ।
নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে ভোটার উপস্থিতি বেশি এবং কম উভয়ই ছিল। এবারের সংখ্যা মধ্যম স্তরে। অনেক গণতান্ত্রিক দেশে ভোটার উপস্থিতি হ্রাস পাচ্ছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
আওয়ামী লীগ ছাড়া অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক বলা হচ্ছে– এ প্রশ্নে ইভার্স ইজাবস বলেন, সমাজের সকল প্রাসঙ্গিক গোষ্ঠী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে কিনা; কেউ অংশগ্রহণ থেকে বাদ কিনা–এগুলো বিবেচনায় এটাকে অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন বলছি।
ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে বলছি, জালিয়াতি বা ব্যালট ভর্তির কোনো ঘটনা আমরা সরাসরি দেখিনি। তবে অবশ্যই আমরা কিছু অনিয়ম লক্ষ্য করেছি। কিন্তু সেটি এ ধরনের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এখনও আপিল প্রক্রিয়া রয়েছে। অভিযোগগুলো আইনি এবং স্বচ্ছ উপায়ে বিবেচিত হচ্ছে কিনা, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের ভোট নিয়ে এক প্রশ্নে পর্যবেক্ষক দলের প্রধান বলেন, ‘আমরা আদিবাসী সম্প্রদায়সহ অন্যান্য ধর্মীয় এবং জাতিগত সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলছি। তারা কিছু পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এটি আমাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।’
এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ইসির প্রতি তাদের সামগ্রিক ধারণা ইতিবাচক। নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুটি গণমাধ্যমকে পুড়িয়ে দেওয়া অবশ্যই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম খুবই বৈচিত্র্যময়। এটি গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সকলকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ কমনওয়েলথের
রাজনীতিতে সকলকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে পরবর্তী সরকারের প্রতি পরামর্শ দিয়েছে কমনওয়েলথ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল। গতকাল নির্বাচন-পরবর্তী প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ পরামর্শ দেন কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের চেয়ার ও ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডো। এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য, শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং স্বচ্ছ হয়েছে।
আওয়ামী লীগ না থাকায় নির্বাচন অন্তর্ভূক্তিমূলক কিনা– এ প্রশ্নে নানা আকুফো-আডো বলেন, এটি এ দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের প্রতিফলন। এটি এমন একটি বিষয়, যা আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা মানুষের বৈচিত্র্য এবং সংখ্যার দিকে তাকালে প্রশংসা করার মতো ভোট পড়েছে। এটি একটি ভালো প্রক্রিয়া ছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভবিষ্যতের দিকে তাকানো। নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যাতে সকলকে নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
- বিষয় :
- ইউরোপীয় ইউনিয়ন
- নির্বাচন
