ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ডেঙ্গু– প্রস্তুতি নিচ্ছে মন্ত্রণালয়

ডেঙ্গু– প্রস্তুতি নিচ্ছে মন্ত্রণালয়
×

 তবিবুর রহমান 

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:০০ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

এ বছরের প্রথম ৫৩ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৪৩৯ জন। এর মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ছয়জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

শুষ্ক মৌসুমেও ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব থাকায় আসছে বর্ষায় কী পরিস্থিতি হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধি না থাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে গতি কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নিয়মিত কিছু ফগিং ও লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম চললেও তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বর্ষায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। গত বছর ডেঙ্গুতে ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, সাধারণত মে মাস থেকে ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হয়। মার্চ ও এপ্রিলের বৃষ্টি, তাপমাত্রা এবং মশার লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তাঁর মতে, এখনই এডিস মশার উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংসে জোর না দিলে বর্ষায় সংক্রমণ বাড়বে। 

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. আহমেদ নওশের আলম বলেন, বর্তমানে কিউলেক্স ও অ্যানোফিলিস মশার উপদ্রব দেখা যাচ্ছে। অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া ছড়ায়, যা রাজশাহী, রংপুর ও পার্বত্য এলাকায় বেশি। কিউলেক্স মশার কামড়ে ফাইলেরিয়া হতে পারে। তবে ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার মাধ্যমে, যার সংক্রমণ সাধারণত মে-জুনে বাড়তে শুরু করে।

সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশীদ বলেন, মশার উপদ্রব বাড়লে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। সিটি করপোরেশন ও আইইডিসিআর মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে, আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসি শাখা রোগীর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কার্যক্রম তদারক করে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিদ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে শিগগিরই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হবে। হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হবে, যাতে আক্রান্তরা দ্রুত চিকিৎসা পান।

তিনি বলেন, সেরোলজিক্যাল জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু রোগে সংক্রমণের হার ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতি নিরূপণ করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে রক্তের নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানা যাবে, কারা আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং কোন এলাকায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি। পাশাপাশি ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঝুঁকির কারণ চিহ্নিত করার জন্য এপিডেমিওলজিক্যাল গবেষণা চালানো হবে। 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষার আগেই সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
 

আরও পড়ুন

×