ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

উড়োজাহাজের ১৮,৪৮০ টাকার টিকিট ৫২,১৪০ টাকা

উড়োজাহাজের ১৮,৪৮০ টাকার  টিকিট ৫২,১৪০ টাকা
×

এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইট (ফাইল ফটো)

 আহমেদ কুতুব, মক্কা থেকে ফিরে

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ | ০৭:২৬ | আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ | ১৭:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

চার বছর সৌদি আরবে চালক হিসেবে চাকরি করেছেন চট্টগ্রাম নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সিডিএ কলোনির বাসিন্দা নিয়ামুল করিম। ছয় মাসের ছেলেকে রেখে বিদেশ পাড়ি জমান। এরপর আর ছুটি না পাওয়ায় দেশে ফেরা হয়নি। তিনি দেশে ফিরতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এয়ার অ্যারাবিয়ায় একটি টিকিট কাটেন। দাম ছিল ৫৬০ রিয়াল (১৮,৪৮০ টাকা)। সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শারজাহ হয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের নামবেন। ফ্লাইট ছিল ৩ মার্চ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ যুদ্ধ শুরুর পর তাঁর টিকিট বাতিল করে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়ে সালাম এয়ারে গতকাল সোমবার সৌদি আরব-ওমান হয়ে চট্টগ্রামে ফেরেন। গত শনিবার সালাম এয়ারের এই টিকিট কিনতে হয়েছে ১৫৮০ রিয়ালে (৫২,১৪০ টাকা)। দশ দিনের ব্যবধানে প্রায় তিন গুণ দামে টিকিট কিনতে বাধ্য হন তিনি। সালাম এয়ারে করে চট্টগ্রাম ফেরার পথে উড়োজাহাজে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

শুধু প্রবাসী নিয়ামুল করিম নন, মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রবাসীদের মতো সংকটে পড়েছেন মক্কা-মদিনায় ওমরাহ করতে যাওয়া যাত্রীরা। মক্কায় ছয় দিন আটকে থাকার পর ৬২ হাজার টাকায় সালাম এয়ারে নতুন ফিরতি টিকিট কিনে দেশে ফেরেন ফেনীর রাজ্জাক মোল্লা। তিনি জানান, ৩ মার্চ দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এয়ার অ্যারাবিয়া ফ্লাইট বন্ধ থাকায় আমরা ১৪ জন আটকে পড়ি। ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে আলোচনা করে তাদের ৬২ হাজার টাকা দিলে সোমবারের একটি টিকিট ম্যানেজ করে। এজেন্সি বাড়তি টাকার মধ্যে ১২ হাজার টাকা এবং আমাকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

একই উড়োজাহাজে দেশে ফেরা কুতুবদিয়ার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল রাশেদ জানান, আট দিন আটকে থাকার পর ট্রাভেল এজেন্সির কাছে দেশ থেকে ৬০ হাজার টাকা পৌঁছানোর পর সোমবারের ফ্লাইটে টিকিট ম্যানেজ করে দেন। এখানে যুদ্ধের কারণে টিকিটের দাম ২০ হাজার টাকা বাড়তি নিয়েছে বলে এজেন্সি জানায়। এভাবে সৌদি আরবের মক্কা-মদিনায় আটকে পড়া ওমরাহ যাত্রী ও প্রবাসীদের কাছ থেকে দ্বিগুণের বেশি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলো।

অন্যদিকে রাত নামলে সৌদি আরব ও ওমানের আকাশে নেমে আসে ভয়ের ছায়া। কারণ রাতেই বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। তাই রাতে দুই দেশের মধ্যে সচল থাকা ওমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সৌদির জেদ্দা ও মদিনা এয়ারপোর্টের আকাশে নেমে আসে অজানা ভয়। গত সোমবার রাতে সালাম এয়ারের চট্টগ্রামগামী উড়োজাহাজ নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা রানওয়েতে দাঁড়িয়ে ছিল।

চট্টগ্রামের মক্কা ট্রাভেল এজেন্সির মালিক দিদারুল ইসলাম জানান, সৌদি আরবে আটকে পড়া যাত্রীদের কেউ দেশে আসতে চাইলে তাদের ৫৫ থেকে ৫৭ হাজার টাকায় দেশে ফেরার জন্য টিকিট কিনতে হচ্ছে। এটা সাধারণ সময়ে ৪০-৪২ হাজার টাকায় কিনতাম। বাংলাদেশ বিমান, ইউএস-বাংলা, সালাম এয়ারসহ চালু থাকা সব এয়ারলাইন্স সৌদি আরবে আসা-যাওয়ার টিকিটে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা সাধারণ সময়ের তুলনায় বাড়তি নিচ্ছে। আগে সালাম এয়ার সৌদি আরবে আসা-যাওয়ার জন্য ৮৫ থেকে ৮৭ হাজার টাকা নিত। এখন দাম নিচ্ছে এক লাখ ১০ হাজার টাকা। সৌদি এয়ার আগে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা নিত, এখন নিচ্ছে এক লাখ ৪২ হাজার টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রামের আরেক ট্রাভেল এজেন্সি মালিক জানান, এয়ার অ্যারাবিয়া, এমিরেটসসহ যেসব এয়ারলাইন্স ওমরাহ যাত্রী নিয়ে গিয়েছিল, ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় টাকা ফেরত দেওয়ার কথা নির্দিষ্ট করে বলছে না। চার্জ কেটে বাকি টাকা ফেরত দেবে বলছে। এ নিয়ে যাত্রী ও এজেন্সির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে। আটকে পড়া অনেক যাত্রী ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় টিকিট কিনে দেশে আসতে চাইছে না। বহুবিধ সংকটে পড়েছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হয়। এর আগে বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ পালন করতে মক্কা-মদিনায় যান বাংলাদেশিরা। যুদ্ধ শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সব উড়োজাহাজ সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করে। এতে সাড়ে তিন হাজার ওমরাহ যাত্রী আটকা পড়েন বলে জানিয়েছেন মক্কার বাংলাদেশ হজ মিশনের প্রধান কনসাল কামরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

×