ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

স্মৃতিসৌধে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার

‘সংসদে স্লোগান দেওয়া ঠিক না, এটি রেওয়াজবহির্ভূত’

‘সংসদে স্লোগান দেওয়া ঠিক না, এটি রেওয়াজবহির্ভূত’
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ০১:৫১ | আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ০৯:৪৯

সংসদে স্লোগান দেওয়া ঠিক না এবং এটি রেওয়াজের বাইরে বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলের ওয়াকআউট প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, সংসদে ওয়াকআউট একটি প্রচলিত রীতি। এটি সব সময় হয়ে থাকে। আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম, আমরাও করেছি।

স্পিকারের পর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর তারা পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময়  সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্পিকার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে স্বৈরাচারকে বিদায় করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। এই মাফিয়ারা যাতে আর পুনর্বাসিত হতে না পারে। দেশে আবার তাদের পুনরুত্থান যাতে না হয়, সে জন্য প্রতিটি গণতান্ত্রিক শক্তি, রাজনৈতিক দলকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, সংসদে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য দল থেকে পদত্যাগ করেছি। বিরোধী দলও সংসদে যথেষ্ট সুযোগ পাবে। স্বৈরাচার হটানোর আন্দোলনে আমরা একই সঙ্গে ছিলাম। তাদের প্রতি আমাদের যথেষ্ট সহনশীলতা রয়েছে। সংসদ পরিচালনায় আমার ভূমিকা হচ্ছে ক্রিকেট খেলার আম্পায়ারের মতো নিরপেক্ষ।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, জাতীয় স্মৃতিসৌধ পবিত্রতম একটি স্থান এবং যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ধারক ও বাহক। এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান বোধ করছি ও অনুপ্রাণিত হয়েছি।

স্পিকার গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী  খালেদা জিয়াসহ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের। একই সঙ্গে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, নিজেও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলাম এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অধীনে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করার সৌভাগ্য হয়েছে। যুদ্ধে আহত হয়েছিলাম।

গত ১৭ বছর বিভিন্ন দলের রাজনৈতিককর্মী, ছাত্র, অভিভাবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যারা আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাদের অবদানও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন স্পিকার।

জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। রাজধানীর  জিয়া উদ্যানে গিয়ে এই শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন এবং রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

পরে স্পিকার বলেন, আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা উপনীত হয়েছি, যখন দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরায় স্থাপিত হয়েছে।

এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা- কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×