ঈদের গহনার জন্য ইমিটেশনই ক্রেতার ভরসা
অলংকার বাজারে ভিন্ন চিত্র, জুয়েলারি দোকান ফাঁকা
মূল কারণ স্বর্ণের অস্বাভাবিক দাম
পোশাক কেনা শেষ। এবার চাই পোশাকের সঙ্গে মানানসই গহনা ও ব্যাগ। সেই সঙ্গে প্রসাধনী। ইমিটেশন গহনার দোকানগুলোতে গতকাল বুধবার ছিল ক্রেতার ভিড়। চট্টগ্রাম নগরীর স্যানমার ওশান সিটি থেকে তোলা মো. রাশেদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৪৭ | আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ | ০৮:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদ মানেই নতুন পোশাক, নতুন জুতা কেনার ধুম। ধনী-গরিব সবার মধ্যে এসব পণ্যের চাহিদা থাকে। মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবারে ঈদ উপলক্ষে স্বর্ণালংকার কেনারও একটি চল দেখা যায়। তবে এবারের ঈদে রাজধানীর অলংকার বাজারে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। অধিকাংশ জুয়েলারি দোকান ফাঁকা।
গতকাল বুধবার ঢাকার মৌচাক মার্কেট এবং মার্কেট লাগোয়া ফরচুন শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জুয়েলারি দোকান প্রায় ক্রেতাশূন্য। ঢাকার নিউমার্কেট, বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের জুয়েলারি দোকানগুলোতে খবর নিয়ে জানা গেছে, তাদের বেশির ভাগই ক্রেতার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
তবে সবার একই অবস্থা নয়। কেউ কেউ দু-একজন ক্রেতা পেয়েছেন। যারা কিনছেন, বেশির ভাগই ছোট গহনা যেমন আংটি, দুল বা নাকফুল। হার বা চুড়ি বা বালার মতো স্বর্ণালংকারে কারও চাহিদা নেই বলে জানান বিক্রেতারা। ফলে প্রায় সকল জুয়েলারি দোকানির কণ্ঠে ঝরছে হতাশার সুর।
মৌচাক মার্কেটে আসা একজন ক্রেতা রাশেদা বেগম জানান, মেয়ের জন্য দুল কিনতে এসেছেন। কিন্তু পছন্দের বেশির ভাগ ডিজাইনই বাজেটের বাইরে। তাঁর ভাষায়, স্বর্ণের যে দাম, তাতে এখন অলংকার কেনা বিলাসিতা।
চাঁদনি চক মার্কেটের নিউ অজন্তা জুয়েলার্সের মালিক রামকৃষ্ণ আক্ষেপ করে বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি অর্ধেকেরও কম। স্বর্ণের দর ক্রেতাদের নিরুৎসাহিত করছে। ফরচুন শপিংমলের অনামিকা জুয়েলার্সের মালিক তাজুল ইসলামের মতে, মানুষের আয় কমে গেছে। তার ওপর স্বর্ণের দাম অনেকটাই বাড়তি। এ অবস্থায় অলংকার এখন আর মানুষের অগ্রাধিকারে নেই।
মৌচাক মার্কেটের বিপরীতে ফরচুন শপিংমল। এ মার্কেটের বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। ক্রেতা না থাকায় যে-ই যাচ্ছে, তাকে ‘কী লাগবে ভাই, আসেন’ বলে ডাকছেন দোকানিরা। এক দোকান মালিক বলেন, মানুষের আয় কমে গেছে, তার ওপর বেড়েছে স্বর্ণের দাম। প্রয়োজনীয় খরচ সামলাতেই যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন কতজন আর আছেন যারা অলংকার কেনায় অগ্রাধিকার দেবেন। ঢাকার নিউমার্কেটের ইভানা জুয়েলার্সের সেলসম্যান সোহেল অবশ্য জানান, ঈদের আগে বিক্রি কম থাকলেও এখন কিছুটা বেড়েছে। তবে গত দেড় বছরে ব্যবসা ধারাবাহিকভাবে খারাপ যাচ্ছে।
জুয়েলারি দোকানে ক্রেতাদের দেখা না গেলেও প্রায় সব মার্কেটের ইমিটেশন গহনার দোকানে ভিড় দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানান, বছরজুড়েই ইমিটেশন গহনার চাহিদা থাকে। এর মধ্যে স্বর্ণের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতারা ইমিটেশন অলংকারের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর কমছে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলার পর গত ২ মার্চ স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দর কিছুটা বেড়েছিল। এর পর থেকে ক্রমে দর হারাচ্ছে স্বর্ণ।
গতকাল বুধবার এ প্রতিবেদন লেখার সময় স্পট মার্কেটে প্রতি তোলা ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণ প্রায় ৬১ ডলার কমে বিক্রি হচ্ছিল ১,৮১৬ ডলারে, বাংলাদেশি টাকায় যা ২ লাখ ২৫ হাজার ২০০ টাকা। অথচ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু পর গত ২ মার্চ স্পট মার্কেটের দর কিছুটা বেড়ে প্রতি ভরি ১,৯৯৭ ডলারে উঠেছিল। ওই দিন সর্বোচ্চ দর ওঠে ২,০৩২ ডলার।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সর্বশেষ গত ১৪ মার্চ ২১ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল, যা গতকাল এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত অপরিবর্তিত ছিল।
- বিষয় :
- স্বর্ণ
