ঈদের ছুটিতে বিশেষ ব্যবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদুল ফিতরের এক সপ্তাহের ছুটিতে হাসপাতালগুলোতে বিশেষ সূচি করে চিকিৎসাসেবা চালু রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের পালাক্রমে দায়িত্ব ভাগ করে জরুরি সেবা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বাস্তবে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সীমিত সেবা পাওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে বেশির ভাগ হাসপাতালের বহির্বিভাগ (আউটডোর) বন্ধ থাকলেও জরুরি বিভাগ খোলা রাখা হয়েছে। বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান– জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল), বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সীমিত পরিসরে সেবা চালু রয়েছে।
তবে রোগীদের অভিযোগ, ছুটির সময় চিকিৎসক-নার্সদের উপস্থিতি কম থাকে। জরুরি বিভাগেও কখনও কখনও চিকিৎসক পাওয়া যায় না। হাসপাতাল ফার্মেসিতেও দেখা দেয় ওষুধের ঘাটতি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগ, স্ট্রোকের মতো জটিল রোগে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা জরুরি। ডায়ালাইসিস-নির্ভর কিডনি রোগীরা নিয়মিত সেবা না পেলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বিশেষায়িত হাসপাতালের পাশাপাশি সাধারণ হাসপাতালেও জরুরি সেবা চালু রাখা প্রয়োজন।
জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল জানিয়েছে, ঈদে জরুরি বিভাগ ও ডায়ালাইসিস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। তবে বহির্বিভাগ তিন দিন বন্ধ থাকবে। চিকিৎসক ও নার্সদের ছুটি সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ১৫ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালের কার্যক্রম সচল রাখতে ১৬ দফা নির্দেশনা দেয়। এতে জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, ইমার্জেন্সি অপারেশন থিয়েটার ও ল্যাব সার্বক্ষণিক চালু রাখা এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ চিকিৎসক, ৫০০ নার্সসহ এক হাজারের বেশি জনবল দায়িত্বে থাকবে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং রোগীদের সেবায় কোনো ঘাটতি রাখা হবে না।
তবে এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুমাইয়া আক্তারের অভিযোগ, তিনি তিন দিন আগে ভর্তি হয়েছেন। গত মঙ্গলবার জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে কোনো চিকিৎসককে গাইনি ওয়ার্ডে আসতে দেখেননি।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এসব হাসপাতালে শিফট অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসেন বলেন, বহির্বিভাগ তিন দিন বন্ধ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার ও ভর্তি রোগীদের সেবা অব্যাহত থাকবে।
ঈদের ছুটির সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার শঙ্কার কথাও তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রেও চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য আলাদা টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঈদের দিন দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জরুরি বিভাগে প্রতিদিন ১৫ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ স্বাভাবিক নিয়মে খোলা থাকবে। জরুরি ল্যাব সেবাও চলবে নিরবচ্ছিন্ন। রোগীদের সুবিধার্থে নির্ধারিত দিনে বহির্বিভাগও খোলা রাখা হবে।
শ্যামলীর ২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আয়শা আক্তারের ভাষ্য, ছুটির দিনে বুধবার (গতকাল) তাদের হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। সাত দিন ছুটি হলেও বহির্বিভাগ বন্ধ থাকবে মাত্র তিন দিন। তিনি নিজেও ঈদের দিন হাসপাতালে এসে রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিগত ঈদগুলোতে রোগীদের অভিযোগ ছিল– গুরুতর অবস্থায়ও চিকিৎসক-নার্সদের সাড়া পাওয়া যায় না। এমনকি প্রয়োজনীয় ওষুধও মেলে না। তাই এবারের দীর্ঘ ছুটিতে রাজধানীর পাশাপাশি বিভাগীয় হাসপাতালেও বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- ঈদের ছুটি
