জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের সন্তান ও আহতদের অবৈতনিক শিক্ষার নির্দেশ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬ | ২২:০৪
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের সন্তান এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ‘জুলাই শিক্ষার্থী যোদ্ধা’দের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন। আজ মঙ্গলবার ঈদের ছুটি শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে শিক্ষামন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ১৮০ দিনের কর্মসূচি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে আধুনিকায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা (কেডস) প্রদান, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ঋণ সুবিধা এবং হাফেজে কোরআনদের সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মন্ত্রী প্রয়োজনে একাধিক শিফটে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে দ্রুত সব শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার কথা বলেন। জাতীয়করণকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০-ঊর্ধ্ব বয়সী শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণ করা হবে এবং সারাদেশের সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে দ্রুত এ সুবিধার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের সব শিক্ষকের হাতে ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড চালু এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।
