খুলনায় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে ছিনতাইকারী দলের সদস্য নিহত
গফরগাঁওয়ে প্রতিবন্ধী রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা, ছাত্রদল নেতা আটক
খুলনা ব্যুরো ও গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ০৯:১৬ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ১১:০৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনার দিঘলিয়ায় এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ছিনতাইয়ের সময় নিজেদের গুলিতে ছিনতাইকারী দলের এক সদস্য নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোররাত পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার স্টিমারঘাট-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম সাগর (৩০)। সে দিঘলিয়ার দেয়াড়া এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তাহিদুল ইসলাম (২৮) দেয়াড়া গ্রামের জাবেদ আলী শেখের ছেলে। গুলি না লাগলেও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোবাইল রিচার্জ ও মুদি ব্যবসায়ী তাহিদুল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, তাহিদুল ইসলাম রাতে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দেয়াড়া স্টিমারঘাট-সংলগ্ন পপুলার জুট মিল এলাকায় পৌঁছালে ৩-৪ জন ছিনতাইকারী তাঁর গতিরোধ করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা গুলি ছোড়ে। এতে সাগর নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে অন্যরা পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সাগরকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দিঘলিয়া থানার ওসি শাহ আলম বলেন, সাগর ছিনতাইকারী দলের সদস্য ছিলেন। নিজেদের ছোড়া গুলি সাগরের শরীরে বিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এদিকে, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গফরগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন ওরফে আইকনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত আলম মিয়া (৩০) উপজেলার গফরগাঁও ইউনিয়নের পরশীপাড়া গ্রামের ছহূর উদ্দিনের ছেলে। আটক ইমরান হোসেনও একই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরশীপাড়া গ্রামে আলম মিয়ার বাড়ির প্রবেশপথের জমি নিয়ে প্রতিবেশী আছিয়া বেগমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আছিয়া অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ইমরানের ফুফু। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আলম মিয়া ওই জমি নিয়ে আছিয়া বেগমের বাড়ির সামনে হৈচৈ করেন। খবর পেয়ে ইমরান হোসেন তাঁর লোকজন নিয়ে আলমকে ধরে স্থানীয় কামালের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে বেদম পিটিয়ে হত্যা করে লাশ বাড়ির সামনে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
গতকাল ভোরে উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রাম থেকে অভিযুক্ত ইমরান হোসেনকে আটক করে পুলিশ। ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন মা নাছিমা বেগম। আহজারি করে তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিবন্ধী পোলাডারে ওরা পিডাইয়া মাইরা ফেলল। এখন কে আমারে মা বইলা ডাকব? আমি এই হত্যার বিচার চাই।’
