ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

অপকর্মে জড়িত বিসিবির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

অপকর্মে জড়িত বিসিবির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
×

আমিনুল হক। ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ১৭:৩৮ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ১৯:১৫

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। 

আজ রোববার সংসদের বৈঠকে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এই মন্তব্য করেন। 

এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দীনের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের মুলতবি বৈঠক শুরু হয়। 

বিএনপি দলীয় বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ২০০৮ সাল থেকে যারা দলীয় সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে অবৈধ নিয়োগ পেয়েছে- তাদের নিয়োগ খতিয়ে দেখতে দ্রুত তদন্ত কমিটি করা হবে। এতে কারা কারা জড়িত আছে তা জাতির সামনে নিয়ে আসা হবে। বিসিবির অর্থ ও জনবল বিগত সময় ভোটের অধিকারহরণ করার জন্য একটি গ্রুপকে সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরণের অপকর্মগুলো করেছে। বোর্ডে অপকর্মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এর আগে মোশাররফ হোসেন তার প্রশ্নে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমল হতে অদ্যাবধি মেধাহীন, চিহ্নিত ক্যাডারদের দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হয়েছিল। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তথাকথিত ভোট ডাকাতির নির্বাচনে ক্রিকেট বোর্ডের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীর একটা অংশ নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ক্রিকেট বোর্ডের সম্পত্তি ব্যবহার করে যে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে কিনা?’ 

জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ক্রিকেট বোর্ডসহ সব খেলাধুলাকে দলীয়করণ, রাজনীতিকরণসহ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন স্থবির করাসহ ধ্বংসের মুখে চলে গেছে। ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন করে দলীয়করণ ও রাজনীতিকরণমুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে কাজ করে চলেছি। 

আমিনুল হক বলেন, ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা, কর্মচারীর ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নেওয়ার কিছু ইস্যু পরিলক্ষিত হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালকের কাছে আহ্বান করব, এ বিষয়ে তদন্ত থাকলে, আমাদের যেন অবগত করেন। যাতে জাতির সামনে উত্থাপিত হয়।

চতুর্থ শ্রেণিতে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক
চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, আমরা নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছি। সাতটি ইভেন্টের মাধ্যমে শুরু করব এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ইভেন্টকে অন্তর্ভুক্ত করব। আমরা পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের ডিভাইসের আসক্তি থেকে সরিয়ে খেলার মাঠে রাখতে চাই।

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, ২০০৮ সাল হতে ঢাকা মহানগরীর ১২১টি রাস্তার নতুন নামকরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরশেনর ৮৩টি ও দক্ষিণ সিটি করপোরশেনের ৩৮টি। বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভাষা সৈনিক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের নামে সড়ক, ভবন ও স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

জুলাই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে গেন্ডারিয়ার দ্বীননাথ সেন রোডের নাম ‘শহীদ শাহরিয়ার আনাস সড়ক’, শেখ কামাল সরণির (ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোড) নাম ‘শহীদ ফারহান ফাইয়াজ সড়ক’, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি সরণির নাম ইনার রিং রোড, বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল সরণির নাম ঝাউচর প্রধান সড়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম সরণির নাম কামরাঙ্গীচর লোহারপুল-বুড়িগঙ্গা সড়ক, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নাম গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার এবং গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউর নাম শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ রাখা হয়েছে।

এনসিপির আখতার হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে যে চরম দুর্নীতি করা হয়েছে তা আমরা উপলব্ধি করছি। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বশীলরাও নিজ নিজ এলাকায় ফান্ড নিয়ে চলে গেছেন। যারা কারণে উত্তরাঞ্চলের রাস্তাগুলো একেবারেই অবহেলিত থেকে গেছে। আমরা আগামীতে এ ধরনের কোনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটসহ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব।

বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে গ্রামাঞ্চলের সড়কের খুব বেশি উন্নতি হয়নি। রাস্তাগুলো এখনও কাঁচা রয়েছে। এই রাস্তাগুলো পাকা করার জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা কাঁচা রাস্তাগুলো পর্যায়ক্রমে পাকা করব।

আরও পড়ুন

×