ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বহুমুখী উৎসের চাপ, দেশে বায়ুর দম বন্ধ

বহুমুখী উৎসের চাপ, দেশে বায়ুর দম বন্ধ
×

সমকালের কোলাজ

 জাহিদুর রহমান

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১১:২৪ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১১:২৫

বাংলাদেশে বায়ুদূষণের চিত্রে সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত মিললেও সামগ্রিক বাস্তবতা এখনও উদ্বেগজনক। বায়ুদূষণে ২০২৪ সালে দেশ হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। আর নগর হিসেবে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ দূষিত নগর ছিল ঢাকা। ২০২৩ সালে বায়ুদূষণে বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। নগর হিসেবে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। ২০২৫ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দূষিত দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের দূষিত রাজধানীগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান এবারও দ্বিতীয়। ক্ষতিকর অতিক্ষুদ্র কণিকা পিএম২.৫-এর মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ সীমার তুলনায় ১৩ গুণের বেশি। 

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক বায়ুগুণমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের ‘বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০২৫’-এ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে পিএম২.৫-এর বার্ষিক গড় ঘনত্ব দাঁড়িয়েছে প্রতি ঘনমিটারে ৬৬.১ মাইক্রোগ্রাম। ২০২৪ সালে এই মাত্রা ছিল ৭৮.০ মাইক্রোগ্রাম। অর্থাৎ, কিছুটা উন্নতি হলেও তা বাংলাদেশের অবস্থান পরিবর্তনে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান এবং তৃতীয় স্থানে তাজিকিস্তান। পিএম২.৫ হলো এমন অতি সূক্ষ্ম কণিকা, যা বাতাসের সঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে সরাসরি ফুসফুসের গভীরে পৌঁছাতে পারে। আকারে এই কণাগুলো মানুষের চুলের তুলনায় প্রায় ৩০ ভাগের ১ ভাগ। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ মেয়াদে এসব কণার সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ এমনকি অকালমৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ে।

পরিবেশবাদী ও গবেষকরা বলছেন, দেশে দূষণ আরও বিস্তৃত হচ্ছে, এবারের প্রতিবেদন সেই বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। কারণ আগে দেখা গেছে,  রাজধানীর তুলনায় দেশের সার্বিক গড় বায়ুমান কিছুটা ভালো থাকত। কিন্তু এবারের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ এবং দেশের সবচেয়ে দূষিত নগরী ঢাকার বায়ুর মান প্রায় একই।

গবেষণা পদ্ধতি ও দূষণ উপাদান

বাতাসের মান নিয়ে আইকিউএয়ার তৈরি করে তাৎক্ষণিক সূচক, যা একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর আইকিউএয়ার দূষণের বার্তা হালনাগাদ করে। এসব প্রতিবেদন একত্র করে বার্ষিক বৈশ্বিক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ২০২৪ সালে ১৩৮টি দেশ ও অঞ্চলের আট হাজার ৯৫৪টি শহরের প্রায় ৪০ হাজার নজরদারি স্টেশন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইকিউএয়ারের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। ২০২৩ সালে ১৩৪টি দেশ থেকে তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন হয়েছিল। ২০২৫ সালে ১৪৩টি দেশের ওপর নজরদারি করা হয়। সে তুলনায় এবারের প্রতিবেদন অনেক বিস্তারিত করা হয়েছে।

বরাবরের মতো এবারের প্রতিবেদনেও বায়ুদূষণের অন্যতম উপাদান পিএম২.৫ বা অতিক্ষুদ্র বস্তু কণার উপাদান ধরেই এই বায়ুর মান নির্ণয় করা হয়েছে। পিএম২.৫ মূলত ধূলিকণা। এটি স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। কণাগুলো ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, পিএম২.৫-এর গড় বার্ষিক মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয়।

দূষণের উৎসে বহুমাত্রিক চাপ

বাংলাদেশে বায়ুদূষণের পেছনে একক কোনো কারণ নয়, বরং একাধিক উৎস একসঙ্গে কাজ করছে। শিল্পকারখানার ধোঁয়া, পুরোনো ও অনুপযুক্ত যানবাহনের নির্গমন, শহর ও শহরতলির অসংখ্য ইটভাটা, চলমান নির্মাণকাজের ধুলাবালু এবং মৌসুমি ফসল পোড়ানো– সব মিলিয়ে বায়ুর মান ক্রমাগত খারাপ করছে। দ্রুত নগরায়ণও এই সমস্যাকে তীব্র করে তুলেছে। নতুন নতুন আবাসন প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ এবং অপরিকল্পিত নগর বিস্তারের কারণে ধুলা ও দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। পরিকল্পনার ঘাটতি ও তদারকির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীর বায়ু

রাজধানী ঢাকা দেশের বায়ুদূষণের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশ্বের দূষিত রাজধানীগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। এখানে পিএম২.৫-এর গড় মাত্রা ৬৮.০ মাইক্রোগ্রাম। তালিকায় ঢাকার ওপরে রয়েছে ভারতের নয়াদিল্লি। প্রতিবেদন বলছে, ঢাকা, দিল্লি ও তাজিকিস্তানের দুশানবের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে বছরের অন্তত দুই মাস পিএম২.৫-এর মাত্রা ১০০ মাইক্রোগ্রাম ছাড়িয়ে যায়। এই দীর্ঘস্থায়ী দূষণ নগরবাসীর জন্য নীরব কিন্তু গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বায়ুদূষণ এখন আর মৌসুমি সমস্যা নয়; এটি বছরব্যাপী এক স্থায়ী সংকটে পরিণত হয়েছে।

দীর্ঘদিনের সমস্যার ধারাবাহিকতা
বাংলাদেশে বায়ুদূষণের সমস্যা নতুন নয়। বরং গত এক দশক ধরে এটি আরও প্রকট হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ প্রায় প্রতিবছরই শীর্ষ দূষিত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে।

২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশ। ২০২২ সালে অবস্থান কিছুটা নিচে নামলেও ২০২৩ সালে আবার শীর্ষে উঠে আসে। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তন হয়নি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম এইচ চৌধুরী লেলিন মনে করেন, বায়ুদূষণ এখন দেশের জন্য অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি। তাঁর মতে, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন, শিল্পকারখানার নির্গমন, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আবাসন খাতের চাপ, যা ইটভাটার বিস্তার ঘটাচ্ছে–এসবই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে। তিনি বলেন, দূষণ একবার নির্দিষ্ট মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে ব্যক্তিগতভাবে তা থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। মাস্ক ব্যবহার কিছুটা ঝুঁকি কমাতে পারে, কিন্তু তা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বায়ুগুণমান পূর্বাভাস নিয়মিতভাবে প্রচার করা প্রয়োজন, যাতে মানুষ আগাম সতর্ক হতে পারে। পাশাপাশি দূষণের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বেইজিংয়ের কথা তুলে ধরেন, যেখানে কঠোর নীতি, শিল্প নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহনের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের মাধ্যমে কয়েক বছরের মধ্যে দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় দূষণের চিত্র

দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বায়ুদূষণ সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাকিস্তান এই অঞ্চলের সবচেয়ে দূষিত দেশ, যেখানে পিএম২.৫-এর গড় মাত্রা ৬৭.৩ মাইক্রোগ্রাম। বাংলাদেশ রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। ভারত ৪৮.৯ মাইক্রোগ্রাম নিয়ে বিশ্বে ষষ্ঠ এবং নেপাল রয়েছে দ্বাদশ স্থানে। অন্যদিকে মালদ্বীপ তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে, যেখানে বায়ুর মান উল্লেখযোগ্যভাবে পরিষ্কার। শ্রীলঙ্কাও তুলনামূলকভাবে কম দূষণের তালিকায় রয়েছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ

বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণের চিত্রও আশাব্যঞ্জক নয়। ২০২৫ সালে বিশ্বের মাত্র ১৪ শতাংশ শহর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ মান পূরণ করতে পেরেছে, যা আগের বছর ছিল ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ পরিস্থিতির উন্নতি নয়, বরং কিছুটা অবনতি হয়েছে। পর্যবেক্ষণ করা ১৪৩টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ৯১ শতাংশই এই মান পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। মাত্র ১৩টি দেশ নিরাপদ সীমার মধ্যে থাকতে পেরেছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, আইসল্যান্ড, এস্তোনিয়া ও পানামার মতো দেশ রয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায়ও দক্ষিণ এশিয়া ও চীনের প্রাধান্য স্পষ্ট। ভারতের লোনি শহর সবচেয়ে দূষিত, এরপর রয়েছে চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলের হোটান। শীর্ষ ২৫টি দূষিত শহরের সবগুলোই ভারত, পাকিস্তান ও চীনে অবস্থিত।

সব দেশের চিত্র এক নয়। কিছু দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। লাওস, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় বায়ুদূষণের মাত্রা কমেছে। এর পেছনে অনুকূল আবহাওয়া, বেশি বৃষ্টিপাত এবং বাতাসের প্রবাহকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গোলিয়ায় পিএম২.৫-এর গড় মাত্রা ৩১ শতাংশ কমে ১৭.৮ মাইক্রোগ্রামে নেমে এসেছে, যা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে ২০২৫ সালে ৭৫টি দেশে দূষণের মাত্রা কমেছে, তবে ৫৪টি দেশে তা বেড়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, তথ্য ঘাটতি

প্রতিবেদন বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বায়ুদূষণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে দাবানলের মতো ঘটনা বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর কণা ছড়িয়ে দিচ্ছে। ২০২৫ সালে কানাডার দাবানলের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে বৈশ্বিক গড় পরিস্থিতিও খারাপ হয়েছে।

বৈশ্বিক বায়ুদূষণ পরিস্থিতি মূল্যায়নে তথ্যের ঘাটতি একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র বাজেট সংকটের কারণে দূতাবাস ও কনস্যুলেটভিত্তিক একটি বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়।

এর ফলে অনেক দেশের নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহে বিঘ্ন ঘটে। এই কারণে বুরুন্ডি, তুর্কমেনিস্তান ও টোগোর মতো দেশগুলো ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যের এই ঘাটতি বৈশ্বিক বাস্তব চিত্র বোঝার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব

বায়ুদূষণ মানব স্বাস্থ্যের প্রতি একটি বড় হুমকি। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট মৃত্যুর দ্বিতীয় কারণ বায়ুদূষণ। আর পাঁচ বছরের নিচের বয়সী শিশুদের মৃত্যুরও দ্বিতীয় কারণ এটি। বাংলাদেশেও দূষণে ক্ষতি কম নয়।

বিশ্বব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১৯ সালে বায়ুদূষণসহ চার ধরনের পরিবেশ দূষণে দুই লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষের অকালমৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বায়ুদূষণের কারণে। এ ছাড়া দূষণের কারণে ওই বছর দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, বায়ুদূষণ যে জনস্বাস্থ্যের একটি বড় বিষয়, সেই উপলব্ধি সরকারের মধ্যে নেই। সেই উপলব্ধি যতদিন পর্যন্ত না আসবে, ততদিন উন্নতি হওয়া সম্ভব নয়।

বায়ুদূষণ শুধু নাগরিক জীবনে স্বাস্থ্যগত সমস্যাই তৈরি করে না। এর মাধ্যমে এই দেশ এবং নগর সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণারও সৃষ্টি হয় বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম। বলেন, বায়ুদূষণ বিনিয়োগ ও পর্যটনের মতো খাতেও প্রভাব ফেলে। দূষণ রোধে সরকারি যেসব তৎপরতা আছে, সেগুলো কার্যকর নয়। পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে সঠিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) দেশের বিভিন্ন শহরের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে সার্বক্ষণিক গবেষণা করে। ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘বায়ুদূষণে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানে থাকাটা আমাদের জন্য মোটেও ভালো সংবাদ নয়। আগের বছরের চেয়ে আমরা তেমন উন্নতি করতে পারিনি। সব মিলিয়ে চিত্রটি পরিষ্কার– বায়ুদূষণ এখন আর শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট। বাংলাদেশে এর প্রভাব আরও তীব্র। কারণ, এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি এবং নগর ব্যবস্থাপনায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সময় যত গড়াবে, এই সংকট ততই গভীর হবে– আর তার প্রভাব পড়বে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘আমরা দূষণ রোধে চেষ্টা করছি, কিন্তু কিছু উৎস নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। যেমন– আন্তঃসীমান্ত বায়ুপ্রবাহ। আবার ইটভাটার দূষণ, শুকনো মৌসুমে পাতা পোড়ানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।’

আরও পড়ুন

×