ফিরে আসছে এল নিনো
জলবায়ু লাল সংকেতে, উষ্ণতার নতুন রেকর্ডের শঙ্কা
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১২:২১ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১২:৩০
পৃথিবীর জলবায়ু এখন ইতিহাসের যে কোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ভারসাম্যহীন অবস্থায় পৌঁছেছে–এমন সতর্কতা দিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। সংস্থাটি বলছে, পৃথিবী যত তাপ মহাশূন্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি তাপ শোষণ করছে। ফলে গ্রহজুড়ে দ্রুত উষ্ণতা বাড়ছে এবং এর প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এই ভারসাম্যহীনতার মূল কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ গ্রিন হাউস গ্যাসের অতিরিক্ত নিঃসরণকে। সংস্থাটির তথ্যমতে, গত বছর এই অতিরিক্ত তাপ শোষণের ফলে সাগরের তাপমাত্রা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং মেরু অঞ্চলের বরফ গলার গতি বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে প্রাকৃতিক উষ্ণায়ন প্রক্রিয়া এল নিনো শুরু হতে পারে, যা বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে আরও বাড়িয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি করতে পারে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় আরও বেশি তাপপ্রবাহ অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আবারও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীকে তার সীমার বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, জলবায়ুর প্রতিটি সূচক এখন লাল সংকেত দিচ্ছে।’
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার হিসাব বলছে, ১৮৫০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা উষ্ণতম ১১টি বছরই গত এক দশকে ঘটেছে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ১ দশমিক ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। যদিও লা নিনার প্রভাবে বছরটি আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম উষ্ণ ছিল, তবুও এটি ইতিহাসের উষ্ণতম বছরগুলোর একটি।
বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বর্তমানে গত ২০ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই অতিরিক্ত তাপের ৯০ শতাংশের বেশি শোষণ করছে সমুদ্র। এর ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর চাপ বাড়ছে, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে।
সংস্থাটির মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো সতর্ক করে বলেছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডে প্রাকৃতিক ভারসাম্য দ্রুত ভেঙে পড়ছে এবং এর প্রভাব শত শত বছর ধরে বহন করতে হবে। ইতোমধ্যে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে গেছে, ডেঙ্গুর মতো রোগের বিস্তারও সহজ হচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইতোমধ্যে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এ ধরনের তাপপ্রবাহের তীব্রতা প্রায় অসম্ভব।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হতে পারে। এই প্রক্রিয়া মানবসৃষ্ট উষ্ণতার সঙ্গে যুক্ত হলে ২০২৭ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এ বিষয়ে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার বিজ্ঞানী জন কেনেডি বলেন, এল নিনো সক্রিয় হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আবারও বাড়বে এবং নতুন রেকর্ড তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- বিষয় :
- জলবায়ু
- তাপপ্রবাহ
- জলবায়ু ঝুঁকি
- জলবায়ুর পরিবর্তন
