ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিরোধী দল বলল জুলাই মানছে না সরকার, ক্ষমতাসীনদের নাকচ

বিরোধী দল বলল জুলাই মানছে না সরকার,  ক্ষমতাসীনদের নাকচ
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৪৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সোমবার সরকারি ও বিরোধী দলের এমপিদের বিতর্ক হয়েছে জাতীয় সংসদে। বিরোধী দলের এমপিরা বলেন, সরকারি দল সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ মানছে না। গণভোটকে অবজ্ঞা করছে। জবাবে সরকারি দলের এমপিরা বলেছেন, স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে; জুলাই সনদ আদেশ নয়।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের চতুর্থ দিনে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন এমপিরা। আজ মঙ্গলবার দিনের কার্যক্রমের পর ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে বিরোধী দলের মুলতবি প্রস্তাবে। তবে এর আগের দিনও বিতর্ক হয়েছে অধিবেশনে।

জামায়াতের এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রথমে জুলাই সনদের প্রসঙ্গ তোলেন। সংবিধানে জুলাই সনদ আদেশ নেই– সরকারি দলের এমপিদের এ ভাষ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারত, তাহলে তো সংবিধানে বালুর ট্রাক সরানোর উপায় খুঁজতে হতো। বাহাত্তরের সংবিধান মানলে আমার থাকার কথা কারাগারে। প্রধানমন্ত্রীর থাকার কথা বিদেশে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও বিদেশে থাকার কথা সংবিধান মানলে।

বিরোধীদলীয় এমপিরা এ সময় টেবিল চাপড়ে বক্তব্য সমর্থন করেন। জুলাইয়ের তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে অবমাননা করা হচ্ছে অভিযোগ করে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, সংবিধানের কথা বলেন, এই সংসদ থেকে ছাত্রদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তাদের জাসদ বলা হচ্ছে। কিন্তু এখানে যারা সংবিধানের কথা বলছেন, তারা একবার ছাত্রদের জন্য কাঁদেন, আবার জুলাইয়ে বলেছিলেন আন্দোলনে তাদের সম্পর্ক নেই। খুব লজ্জিত হই। 

শরিফ ওসমান হাদিসহ জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের বিচারে অগ্রগতি চান শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গণভোটের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সংবিধানের লাইন, দাঁড়ি, কমা শেখানো হচ্ছে। জুলাই সনদ, গণভোট নিয়ে জাতির সঙ্গে বেইমানি করা হলে আবার আয়নাঘরের দিকে ধাবিত হতে হবে। গণভোটের বিরোধিতা মানে আয়নাঘরকে সমর্থন করা।
বিএনপি ম্যান্ডেট পেয়েছে– এ বক্তব্যের জবাবে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আপনারা যেমন ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, তেমনি ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটকে সমর্থন করেছে। গণভোটকে অবজ্ঞা করলে মানুষ আবার জেগে উঠবে।

এরপর বক্তব্য দেন বিএনপির এমপি আজিজুল বারী হেলাল, এস এম জিলানী, শহিদুল ইসলাম বাবুল, মোস্তাফিজুর রহমানসহ আট এমপি। আজিজুল বারী হেলাল বলেন, বিএনপি সবার আগে জুলাই সনদে সই করেছে। জামায়াতেরও আগে। বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে সই করেনি। জুলাই আদেশ মানবে না। জুলাই সনদ দাঁড়ি-কমাসহ বাস্তবায়ন করবে। অন্য কোনো দল জুলাই সনদের বিষয়ে বিএনপির চেয়ে আন্তরিক নয়। কাদম্বিনীকে মরে প্রমাণ করতে হয়েছিল। বিএনপিকে আর প্রমাণ দিতে হবে?
জামায়াতের সমালোচনা করে শহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি নির্বাচনের আগেও যা বলেছে, এখনও তাই বলছে। বিএনপি জুলাই আদেশে সই করেনি। জুলাই সনদের নামে সংবিধান সংস্কার পরিষদ চাপিয়ে দিলে মানতে চাই না। সংসদ সার্বভৌম ক্ষমতার। সংস্কার হলে সংসদের মাধ্যমে হোক। 
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ১৭ বছরের আন্দোলনের ফল। বিরোধী দলের অবদানকে অস্বীকার করি না। কিন্তু তারা বলে, বিএনপি নাকি গাদ্দার, বেইমান। এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বিএনপিকে মাইনাসে। মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, অনেকে মুক্তিযুদ্ধকে আড়াল করতে চান। নব্বইয়ের অভ্যুত্থানকে খাটো করতে চান। জুলাই একাত্তর, নব্বইয়ের ধারাবাহিকতা। 

জামায়াতের এমপি ফজলুর রহমান 
সাঈদ বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেন, টেম্পোস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ডসহ সব জায়গায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। রিকশাচালকও চাঁদাবাজি থেকে রক্ষা পাচ্ছে 
না। এ পরিস্থিতির অবসানে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। 

আরও পড়ুন

×