ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভয়েস কলের ফ্লোর প্রাইস

৮ বছরে অপারেটরদের বাড়তি আয় ৩৭ হাজার কোটি টাকা

ধাপে ধাপে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া দাবি

৮ বছরে অপারেটরদের বাড়তি আয় ৩৭ হাজার কোটি টাকা
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:০৯

ভয়েস কলের সর্বনিম্ন মূল্য (ফ্লোর প্রাইস) নির্ধারণের নীতির ফলে গত আট বছরে মোবাইল অপারেটররা ৩৭ হাজার ১৫২ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় করেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই বাড়তি আয়ের বড় অংশই এসেছে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের কাছ থেকে, যারা এখনও ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে থেকে যোগাযোগের জন্য ভয়েস কলের ওপর নির্ভরশীল।
 
রোববার রাজধানীর কাওরান বাজারে বেসিস কার্যালয়ে টেক ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিপাপ) ও ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত সংলাপে এ তথ্য তুলে ধরেন রবির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভয়েস কলের ফ্লোর প্রাইস প্রতি মিনিট ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করে। এর আগে গ্রাহকরা মাত্র ১০ পয়সা মিনিটে কথা বলার সুযোগ পেতেন। এই মূল্যসীমা চালুর পর থেকে অপারেটররা প্রতি মাসে গড়ে ৩৮৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় করছে। ৮ বছরে চারটি অপারেটর মিলে বাড়তি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ১৫২ কোটি টাকা।

মাহাতাব উদ্দিন বলেন, দেশে এখনও বড় একটি জনগোষ্ঠী ফিচার ফোন ব্যবহার করে এবং ডেটা সেবার আওতার বাইরে রয়েছে। ফলে ফ্লোর প্রাইসের বোঝা মূলত নিম্ন আয়ের মানুষের ওপরই পড়ছে। এই নীতিকে মান্ধাতার আমলের ধারণা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এ ধরনের মূল্যসীমা নেই। এতে অপারেটররা সহজে উচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করতে পারায় ডেটাভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণে আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

গত কয়েক দশকে প্রায় ১৪২ শতাংশ তরঙ্গ বৃদ্ধি পেলেও অপারেটররা এখনও তরঙ্গের সীমিত ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রবির সাবেক এই এমডি বলেন, দেশে শতভাগ ৪জি নেটওয়ার্ক কাভারেজ নিশ্চিত করতে এখনও প্রায় ২০ হাজার টাওয়ার প্রয়োজন, অথচ অপারেটররা শতভাগ কাভারেজের দাবি করছে।
 
তিনি বলেন, ভয়েস নির্ভরতা কমিয়ে ডেটাভিত্তিক অর্থনীতিতে যেতে হলে এই মূল্যসীমা পুনর্বিবেচনা জরুরি। এতে নতুন স্মার্টফোন ব্যবহারকারী বাড়বে, ইন্টারনেট প্রবেশ ৪৫ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে এবং ডিজিটাল খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে ডিভাইস ও ডাটার ওপর কর কমানো এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

তবে অপারেটরদের পক্ষ থেকে ভিন্ন মত এসেছে। রবির কর্পোরেট ও রেগুলেটরি বিভাগের প্রধান শাহেদ আলম বলেন, ফ্লোর প্রাইস তুলে দিলে ডাটা সেবার দাম বাড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের ওপরই চাপ সৃষ্টি করবে। টেলিকম সেবার মূল্য নির্ধারণে সামগ্রিক প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি এবং এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ খরচ বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

বিটিআরসির উপপরিচালক মোহাম্মদ ফারহান আলম বলেন, দেশে এখনও প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের স্মার্টফোন নেই এবং তারা ভয়েস কল বা এসএমএসের ওপর নির্ভরশীল। ফ্লোর প্রাইস হঠাৎ তুলে দিলে বাজারে একচেটিয়া পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সংলাপে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী উচ্চ কলরেটের কারণে মোবাইল সেবার পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছে না। মোবাইল সেবাকে জনবান্ধব করতে ভয়েস কলের মূল্যসীমা পুনর্বিবেচনা, ডাটা খরচ কমানো এবং নীতিগত সংস্কার জরুরি হয়ে উঠেছে।

সংলাপে আরও অংশ নেন টিপাপ আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিয়েটস অব বাংলাদেশের সভাপতি হোসন সাদাত, বাংলালিংকের রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল মাসুদ প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×