জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে বিল পাস
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:২৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিরোধীদের কেউ হতাহত হয়ে থাকলে এর বিচার হবে না। এ জন্য জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে গতকাল বুধবার সংসদে বিল পাস হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিলটি আইনে পরিণত হবে।
গত ২৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ জারি করেছিল। কোনো পরিবর্তন ছাড়াই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণতি হতে যাচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচারে হত্যা ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধে এবং আত্মরক্ষায় জুলাইযোদ্ধারা যা করেছেন, তা বৈধ। এ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না।
সরকারি হিসাবে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় অভ্যুত্থানকারীদের প্রতিরোধে ৪৪ পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হন অনেকে। সেই সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কয়েকজন নিহত হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল অনুযায়ী, এসব হতাহতের ঘটনা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে ঘটে থাকলে বিচার হবে না। তবে অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে কেউ হতাহতের ঘটনা ঘটালে বিচার হবে। তা তদন্ত করবে মানবাধিকার কমিশন।
সংসদে বাহাস
গতকাল সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বিলের একাংশের বিষয়ে সুরাহা দাবি করে আপত্তি জানান এনসিপির এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিতর্কে জড়ান তিনি। পরে তাঁর আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। কণ্ঠভোটে বিলটিও সংসদে পাস হয়।
বিলে আপত্তি জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে হাসনাত বলেন, এই বিলটি পাসের আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত বিষয়ের সুরাহা জরুরি। কারণ দায়মুক্তির বিষয়টি মানবাধিকার কমিশনের ওপর নির্ভরশীল। মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ পাস না করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের বিল আনা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিল কার্যকরে মানবাধিকার কমিশনকে অবশ্যই স্বাধীন করতে হবে। মানবাধিকার কমিশনে দলীয়করণ করা হলে গুম-খুন থেকে শুরু করে জুলাই দায়মুক্তি কাগজেই থেকে যাবে।
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হানাদার বাহিনীর মতো আওয়ামী লীগ এবং তাদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও পেটুয়া বাহিনী অত্যাচার ও গণহত্যা চালিয়েছে। অভ্যুত্থানকারীদের সাংবিধানিক এবং আইনের সুরক্ষায় সবার মতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার এ অধ্যাদেশ জারি করে।
মানবাধিকার কমিশন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার কেউ মানবাধিকার কমিশনের বদলে ট্রাইব্যুনালে মামলা করলে দ্রুত প্রতিকার পাবেন।
বিলে যা আছে
৪ ও ৫ ধারায় অভ্যুত্থানকারীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ৪ ধারায় বলা হয়েছে, অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার কারণে কারও বিরুদ্ধে মামলা হলে তা প্রত্যাহার হবে। তবে সরকার প্রত্যয়ন করবে, মামলাটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে দায়ের করা হয়েছিল কিনা। তেমন হলে মামলা চলমান থাকলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি খালাসপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবেন।
- বিষয় :
- জুলাই যোদ্ধা
