ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘এমভি গোল্ড অটামে’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

কয়েক সেকেন্ড দেরি হলেই লাশ হতাম সবাই: বাংলাদেশি নাবিক

১৮ নাবিকের সবাইকে উদ্ধার করেছে পাকিস্তানের জাহাজ

কয়েক সেকেন্ড দেরি হলেই লাশ হতাম সবাই: বাংলাদেশি নাবিক
×

ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি গোল্ড অটাম’

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৩:৪২

চীনের সাংহাই থেকে ওমানের সোহার বন্দরে যেতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিল পানামার পতাকাবাহী ‘এমভি গোল্ড অটাম’। যুদ্ধবিরতির আগের দিন মঙ্গলবার দুপুরে সেই জাহাজে হঠাৎ আঘাত করে একটি মিসাইল। বাংলাদেশি ৬ নাবিকসহ মোট ১৮ জনকে নিয়ে জাহাজটি তখন আরব সাগরে। গন্তব্যস্থল থেকে জাহাজটি তখনও প্রায় ২০০ নটিক্যাল মাইল দূরে। 

সেই জাহাজে থাকা বাংলাদেশি নাবিক এহসান সাবরি রিহাদ বলেন, ‘দুপুরের খাবার খেয়ে তখন বিশ্রাম নিচ্ছিলাম আমরা। হঠাৎ বিকট শব্দে জাহাজ কেঁপে ওঠে। দ্রুত লাইফ জ্যাকেট পরে ইঞ্জিনকক্ষে ছুটে যাই। পরে দেখি মিসাইলের আঘাতে ক্রেনের নিচে আগুন ধরে গেছে। নিজেদের নিরাপদ করতে একপর্যায়ে আমরা জাহাজের অ্যাকোমডেশন কক্ষে ঢুকে পড়ি। এর পরপরই আমাদের পেছনে আরেকটি মিসাইল আঘাত হানে। কয়েক সেকেন্ডে দেরি হলে সবাই লাশ হতাম সেদিনই।’

এহসান সাবরি ছাড়াও এই দলে ছিলেন বাংলাদেশি নাবিক তাওহীদুর রহমান, আবদুল্লাহ আল মারুফ, সৈকত পাল ও রিয়াদ হোসেন। জাহাজেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় নাবিকদের।

জাহাজটিতে এহসান সাবরি রিহাতসহ বাংলাদেশের ৬ জন নাবিক ও ক্রু ছিলেন। সর্বোচ্চ ১১ জন ছিলেন চীনের নাগরিক। এছাড়া ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া এবং মিয়ানমারের নাবিক ছিলেন ১ জন করে।

রিহাদ জানান, তারা লাইফবোট থেকে আকাশে ফ্লেয়ার ছুড়ে সাহায্য চান। প্রায় সাত ঘণ্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে এমভি ইউনাইচ নামে একটি জাহাজ তাদের উদ্ধার করে।  অন‍্যদিকে আক্রান্ত হওয়া পরিত‍্যক্ত জাহাজটিতে তখনও ক্যাপ্টেনসহ ৪ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের নাবিক মাজহারুল আবেদীন শাওনও রয়েছেন। বাংলাদেশের বাকি ৫ জন সেই বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে লাইফবোটে নেমে উত্তাল সাগরে ভাসতে থাকেন।

এদের উদ্ধার করতে কোম্পানি থেকে পাকিস্তান দূতাবাসের মাধ্যমে দেশটির নৌবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়। ঐদিন রাত ১টার দিকে পাকিস্তান নৌবাহিনী সবাইকে উদ্ধার করে। প্রায় সাত ঘণ্টা পর বুধবার সকাল আটটার দিকে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজ পিএনএস হুনাইন এসে প্রথমে পরিত্যক্ত জাহাজে আটকে থাকা ১৮ জনের মধ্যে ১৪ জনকে উদ্ধার করে। পরে এমভি ইউনাইচ থেকে বাকি চারজনকেও উদ্ধার করে। এই ১৮ জনকে নিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা দুইটায় করাচি বন্দরে পৌঁছায় পাকিস্তানের উদ্ধারকারী জাহাজটি। পাঁচ বাংলাদেশি নাবিক এখন করাচির একটি হোটেলে আছেন।

মিসাইল হামলায় পাসপোর্ট ও সিডিসিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়ে এখন দেশে ফেরা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন পাকিস্তানে থাকা বাংলাদেশি নাবিকরা। তারা দ্রুত দেশে ফিরতে চান।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নাবিকেরা যাতে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারে সে জন্য সব প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। তাদের সঙ্গে এখন নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি আমরা।’

আরও পড়ুন

×