বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়েছে মাত্র চারটি
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০০:৫৬
সদ্য সমাপ্ত বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল নাম মাত্র। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে আধুনিক ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ (ওসিভি) সিস্টেম এবং আইটি সমর্থিত অনলাইনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুবিধা দিলেও দুই আসন মিলিয়ে প্রবাসীদের মাত্র চারটি ভোট জমা পড়েছে।
রোববার ইসির ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ বা ওসিভি সিস্টেম বাস্তবায়ন প্রকল্পের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সেলিম আহমদ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়া তিনটি পোস্টাল ব্যালট পেয়েছেন। আর শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হাতে পেয়েছেন মাত্র একটি পোস্টাল ব্যালট।
ইসি সূত্র বলছে, ৯ এপ্রিল এই দুই নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগের দিন ৮ এপ্রিল দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই দুই আসনে মোট ২৮ জন প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় ৯ এপ্রিল বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে মাত্র ৪টি ব্যালট।
ইসির তথ্যানুযায়ী, এই দুই আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধিত হয়েছিলেন ৭ হাজার ৩০৯ জন ভোটার। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৬৪ জন। বগুড়া-৬ আসনে ১ হাজার ২৮১ জন প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হলেও ভোট দিয়েছেন ২৩ জন এবং চূড়ান্তভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে মাত্র তিনটি ব্যালট। একই আসনে দেশের অভ্যন্তরে থাকা ভোটারদের মধ্যে ২ হাজার ৪৫৫ জন নিবন্ধিত হয়ে ১ হাজার ৬৫ জন পোস্টাল ব্যালটে তাদের ভোট পাঠাতে পেরেছেন।
একই চিত্র দেখা গেছে শেরপুর-৩ আসনেও। সেখানে ৩৮৩ জন প্রবাসীর মধ্যে ৫ জন ভোট দিলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের হাতে পৌঁছেছে মাত্র ১টি ব্যালট। বিপরীতে দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য ৩ হাজার ১৯০টি ব্যালট ইস্যু করা হয়েছিল এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা সময়মতো ২ হাজার ১৮টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন।
গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই পোস্টাল ভোট প্রক্রিয়া শেষ হয় ৯ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টায়। দুই আসনের নির্বাচনে অভ্যন্তরীণ ভোটারদের অংশগ্রহণ সন্তোষজনক হলেও প্রবাসীদের অংশগ্রহণের এই নাজুক পরিস্থিতি এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই অনাগ্রহের পেছনে কারণ হিসেবে ইসি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসন দু’টিতে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা কম থাকা বা সচেতনতার অভাবে এমন নিম্নমুখী ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে।
দুটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। বগুড়া-৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন রেজাউল করিম বাদশা। আর শেরপুর-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন মাহমুদুল হক রুবেল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হয়ে আসনটি ছেড়ে দিলে শূন্য ঘোষণা করে নতুন করে নির্বাচন করে ইসি। এছাড়া শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় সে সময় ভোট স্থগিত করে ৯ এপ্রিল নতুন তপশিলে ভোট করে সংস্থাটি।
বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের ব্যবস্থা চালু হয়। তবে এর প্রয়োগ ছিল না তেমন একটা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটেই প্রথমবার আইটি সমর্থিত অনলাইন সিস্টেম চালু করা হয়। এবারের সাধারণ নির্বাচনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সে সময় ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি ভোটার নিবন্ধিত হয়েছিলেন। এমনকি ওই নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়ার হার ছিল ৭০ শতাংশ। যা সাধারণ ভোটের হারের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি ছিল।
- বিষয় :
- বগুড়া-৬
- শেরপুর-৩
- নির্বাচন
- পোস্টাল ব্যালট
