ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মানববন্ধনে বক্তারা

ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতি হুমকির মুখে

ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতি হুমকির মুখে
×

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মইনীয়া যুব ফোরামের মানববন্ধন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:৪২

দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও সাম্প্রতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অরাজনৈতিক যুব সংগঠন মইনীয়া যুব ফোরাম। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে সর্বস্তরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল হাসানীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক নেতারা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতি বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে।

সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল হাসানী অভিযোগ করেন, ভিন্নমতের মানুষদের পাশাপাশি মাজার, খানকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বেড়েছে, যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বলেন, মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

তিনি বলেন, চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার—নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার—হুমকির মুখে পড়েছে।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা মানবাধিকার রক্ষা ও একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাজার, খানকা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তারা।

এ সময় সরকারের কাছে ৭ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— নাগরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার, সহিংসতায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, গুরুতর অপরাধ দমনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্ত, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে সচেতনতা, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি। 

বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হবে। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ ও সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুন

×