ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন
ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ ছাড়াই ৩ প্যানেল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:২৭
ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের বাকি আর ৯ দিন। আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবারই প্রথম অনকূল পরিবেশ না থাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তবে একাধিক আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী প্রার্থী স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ দেখালেও ‘অনুমতি’ না মেলায় অংশ নিতে পারেননি।
এদিকে, এবারের নির্বাচনে সমিতির সভাপতির অনুমতি সাপেক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম দেওয়া হবে– এমন বিধান যুক্ত করা অবৈধ বলে দাবি করেছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন, এমন বিধান আগে কখনও ছিল না। একটি বিশেষ দলকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে অবৈধভাবে এ বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১৬ আইনজীবী মনোনয়নপত্র কেনার অনুমতি চাইলেও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, তাদের এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চাচ্ছে, তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন সমকালকে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের বাইরে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন, তারা টাকা জমা দিয়ে নিয়মমাফিক আমার কাছে এসেছেন, তাদের সবাইকে আমরা মনোনয়ন ফরম দিয়েছি, তারা বৈধ প্রার্থী। যারা বলছেন মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়নি, তাদের অভিযোগ সত্য নয়।
তবে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত কোনো প্যানেল বা প্রার্থী এবার মনোনয়ন ফরম চেয়েছিলেন কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বোরহান উদ্দিন বলেন, দেশের কোথাও বার নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগের প্যানেল দেয়নি। আর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বা তাদের কোনো সিনিয়র নেতা বারের নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম নিতে আমার কাছে আসেনি।
এদিকে নির্বাচনে এবার জোটবদ্ধ নয়, বরং আলাদা প্যানেল নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি সমর্থিত আইনজীবীরা। বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেলে) এবং স্বতন্ত্র আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (হলুদ প্যানেল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত নীল প্যানেলে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি সমর্থিত সবুজ প্যানেলে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক পদে আবু বক্কর সিদ্দিক, হলুদ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মোহাম্মদ ইউনুস আলী বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক পদে শহীদুল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া বলাই চন্দ্র দেবও এককভাবে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচনে ২০ হাজার ৭১৬ আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এদিকে, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র না পাওয়া একাধিক আইনজীবী প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। পেশাগত ঝামেলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা গণমাধ্যমে কথা বলতে চাচ্ছেন না।
নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমান আনিস জানান, ৫৪ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এর মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যকরী পরিষদের ২৩টি পদের বিপরীতে দুই প্যানেল থেকে ৪৬ জন এবং আটজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অনুমতি পাননি ১৬ আইনজীবী
গত ৮ এপ্রিল বিএনপিপন্থি আইনজীবী সভাপতি পদে প্রার্থী হতে চেয়ে মনোনয়ন ফরম না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন আলী খান হাসান। এ বিষয়ে তিনি সভাপতির কাছে লিখিত আবেদন করেন। তবে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে তাঁকে জানানো হয়, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হবে না।
গতকাল হোসেন আলী খান হাসান সমকালকে বলেন, আমি অনুমতি চেয়েছিলাম, দেওয়া হয়নি। তারা যে নির্বাচনে অংশ নিতে বারের সভাপতির অনুমতির বিধান করেছে, সেটা অবৈধ। এটা তারা করতে পারেন না।
মনোনয়ন ফরম না পাওয়া আইনজীবী নাছিমা বেগম বলেন, আমাকে মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়নি। বারের সভাপতি বলেছেন, আপনাকে ফরম দেওয়া যাবে না। তারা যে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন করতে হলে বারের সভাপতির অনুমতি লাগবে– এটা আমাদের বারের সংবিধানে নেই।
এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, হোসেন আলী খান হাসান আমার কাছে মনোনয়ন ফরম নিতে আসেননি। তাঁর অভিযোগ সত্য নয়। এ ছাড়া নাছিমা বেগমও আমার কাছে মনোনয়ন ফরম চাননি।
এদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবেদন করার পর নির্বাচন কমিশন থেকে যাদের ফরম দেওয়া হয়নি, তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. ইশতিয়াক আহমেদ (এজিএস), আমিনুল ইসলাম ও ইফফাত জাহান রনি (লাইব্রেরি সম্পাদক), তাহমিনা তাহের মুমু (সাধারণ সম্পাদক), ওবায়দুল ইসলাম (সিনিয়র সহ. সম্পাদক), খায়ের উদ্দিন শিকদার ও শাহনাজ পারভীন সাইন (ট্রেজারার), আবুল বাসার ও মোহাম্মদ লিটন মিয়া (সহসাধারণ সম্পাদক), সৈয়দ মনিরুজ্জামান মনির, মৌসুমি বেগম ঢাকাইয়া ও মো. মনিরুজ্জামান (সদস্য), সুজন মাহমুদ (তথ্য এ যোগাযোগ সম্পাদক) এবং রফিকুল হোসেন (দপ্তর সম্পাদক)।
অভিযোগ আছে, এসব আইনজীবী বারের সভাপতির কাছে আবেদন করলেও তা অফিসিয়ালি সিল ও সই দিয়ে রেজিস্টার খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়নি। ফলে তাদের কোনো আবেদন সমিতি বা নির্বাচন কমিশন পায়নি বলে জানানো হয়।
- বিষয় :
- ঢাকা আইনজীবী সমিতি
