ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম স্থিতাবস্থা চেয়ে আপিল

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম স্থিতাবস্থা চেয়ে আপিল
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:১১

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন প্রণয়নের আগে সচিবালয় যেভাবে চলছিল, সে অবস্থায় রাখতে স্থিতাবস্থা চেয়ে আবেদনসহ আপিল করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। আর এই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই স্থিতাবস্থা চাওয়া হয়েছে। 

সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের সূত্র ধরে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় সোমবার আপিলটি দাখিল করা হয়।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইনে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়-সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা দুটি অধ্যাদেশ রহিত করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হবে; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে ন্যস্ত বাজেট, গৃহীত প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত ও ন্যস্ত হবে এবং সচিবালয়ের জন্য সৃজন করা পদগুলো বিলুপ্ত হবে বলে রহিতকরণ আইনে উল্লেখ রয়েছে। আইনের এসব বিধানের কার্যক্রম আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত চাওয়া হয়েছে বদিউল আলম মজুমদারের করা আবেদনে।

এর আগে সাত আইনজীবীর করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা এবং ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া সংবিধান ও আইনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা জড়িত থাকায় আপিলের জন্য সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। এর ফলে সরাসরি আপিল করার সুযোগ তৈরি হয়। গত ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়। এরপর ৯ এপ্রিল সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়। পরদিন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন হয়।

গত বছর হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ শিরোনামে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। একই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করা হয় এবং সচিবালয়ের যাত্রা শুরু হয়।

সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আপিল করতে হলফনামার জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার। যা রোববার আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে ওঠে। আদালত হলফনামার অনুমতি দেন। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার আপিলটি করা হয় বলে জানান বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী কারিশমা জাহান।

তিনি বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের রায় হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ এর মাধ্যমে। এ অধ্যাদেশের অধীন প্রশাসনিক অনেক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও হয়েছে। যখন নতুন সরকার এসেছে, চলতি মাসের ১০ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন প্রণয়ন করেছে।

তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এবং পরবর্তী সময়ে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আপিল করা হয়েছে। ওই আইনের অধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অধীন যেসব কার্যক্রম হয়েছে, সেগুলো আবার আইন ও বিচার বিভাগের কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে। আপিলের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। যত শিগগির সম্ভব আপিল শুনানির জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×