বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মালামাল লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
৬টি পিকআপ ভ্যানে করে চুরির সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়। ছবি-ভিডিও থেকে নেওয়া
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৪১
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অধীনে পরিচালিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে। অন্তত ছয়টি মিনি ট্রাকে করে এসব সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে হাসপাতালের একজন কম্পিউটার অপারেটর ও একজন প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- হাসপাতালের কম্পিউটার অপারেটর মো. মামুন এবং প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে লুট হলো মালামাল
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) গভীর রাতে হাসপাতালের বেজমেন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট করা হয়। হাসপাতালের আনসার ক্যাম্পের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মো. হাফিজুল ইসলামের জবানবন্দি থেকে ঘটনার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
হাফিজুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন বিকেলে হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. মো. শাহিদুল হাসানের পিএস তাকে ডেকে জানান যে বেজমেন্ট থেকে কিছু মালামাল বের হবে। পিসি গেট পাস চাইলে তাকে সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। মাহমুদুল হাসান তাকে জানান যে বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং প্রকৌশলী মামুনুর রশীদের কাছে অনুমতিপত্র রয়েছে।
জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বেজমেন্টে দুটি মিনি ট্রাক প্রবেশ করে। সেখানে আগে থেকেই প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ ও কম্পিউটার অপারেটর মামুন উপস্থিত ছিলেন। পরে আরও চারটি ট্রাক ভেতরে ঢোকে। দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা মালামাল বের করার অনুমতিপত্রের ছবি তুলতে চাইলে অভিযুক্তরা বাধা দেন এবং স্টোরের দায়িত্বে থাকার দোহাই দিয়ে ছবি তুলতে নিষেধ করেন।
হুমকি ও জোরপূর্বক মালামাল অপসারণ
ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে কিছু বহিরাগত লোক হাসপাতালে ঢুকে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। আনসার সদস্যরা তাদের বের করে দিলেও পরিস্থিতি জটিল হতে থাকে। পিসি হাফিজুল ইসলাম বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে রাতে গাড়ি বের করতে নিষেধ করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, পরদিন ভোর পৌনে ছয়টার দিকে সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান মোবাইল ফোনে নির্দেশ দেন যে প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ গেট পাস দিতে পারলে গাড়ি বের হতে পারবে। এরপর সকাল ছয়টার দিকে ছয়টি ট্রাকে করে মালামালগুলো হাসপাতাল থেকে বের করে নেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটি গঠন
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হাসপাতালটির পরিচালক ও ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফুল্লাহ মুন্সী বলেন, “চুরির ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া কম্পিউটার অপারেটর ও প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে হাসপাতালের আর কেউ জড়িত কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
