জ্বালানি সংকট
মোটরসাইকেল বিক্রিতে ধস, কৃষিযন্ত্র বেচাকেনাও কম
এক মাসে মোটরসাইকেল বিক্রি কমেছে ৭০-৮০ শতাংশ
মেহেরপুরে মোটরসাইকেলের শোরুমে ক্রেতা না থাকায় কর্মীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন সমকাল
জসিম উদ্দিন বাদল
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:০১ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:২০
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে মাস দেড়েক ধরে চলছে তীব্র জ্বালানি সংকট। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না জ্বালানি তেল। ফলে মোটরসাইকেলে আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা। এতে বড় ধস নেমেছে এ খাতের বাজারে। এ বছরের মার্চের তুলনায় এপ্রিলে বিক্রি তিন ভাগের এক ভাগে নেমেছে। একই সময় পুরোনো গাড়ি কেনাবেচাও ঠেকেছে অর্ধেকে। জেনারেটর, শ্যালো মেশিন, পাওয়ার টিলারসহ ডিজেল ও পেট্রোল-নির্ভর কৃষি মেশিনারি বিক্রিও ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
তবে শহরের চেয়ে গ্রামে মোটরসাইকেল বিক্রি কমেছে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ। গত দুই-তিন দিন দেশের অন্তত ২৫টি জেলা ও ৯টি উপজেলা থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং এ খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া জ্বালানি সংকট বাজারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় মধ্যবিত্ত ক্রেতারা নতুন মোটরসাইকেল কেনার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অনেকের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। অন্যদিকে উচ্চবিত্তের অনেকেও ব্যক্তিগত গাড়ি কেনা থেকে বিরত থাকছেন। এ কারণে বিক্রি তলানিতে নেমেছে। তারা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই এ খাতে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি ও বিকল্প আমদানি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা।
‘পিক সিজন’ এপ্রিলে বড় ধস
এ খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) সারাদেশে এক লাখ ২৪ হাজার ৯৩টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময়ে বিক্রির পরিমাণ ছিল এক লাখ ৩৬ হাজার ৪১৫টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাজার সংকুচিত হয়েছে ৯ শতাংশ। এর আগে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বাজার যথাক্রমে ২৩ শতাংশ ও ১০ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে থাকলেও ২০২৫ সালে এক লাফে ৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের শুরুতেই সেই ধারা থমকে দাঁড়াল।
একক মাস হিসেবে বড় ধস নেমেছে এপ্রিলে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিক্রি হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৭৫টি মোটরসাইকেল। ফেব্রুয়ারিতে তা সামান্য বেড়ে হয় ৩৭ হাজার ৬৬০টি। তবে মার্চে বিক্রি বেড়ে দাঁড়ায় ৫১ হাজার ৯৫৮টিতে। সাধারণত এপ্রিলকে মোটরসাইকেল বিক্রির ‘পিক সিজন’ ধরা হয়। তবে এবার এপ্রিলে বিক্রি তলানিতে নেমেছে। ২২ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র ১০ হাজার। যেখানে গত বছরের এপ্রিলে বিক্রি হয়েছে ৩১ হাজার ৫১৮টি।
হিরো ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশের কোম্পানি সচিব ও নিলয় মোটরসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) বিজয় কুমার মণ্ডল সমকালকে বলেন, গত দুই মাসে জ্বালানি সংকটের কারণে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিক্রিতে। সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে গ্রামাঞ্চলে। কারণ শহরে জ্বালানি সংকট কিছুটা কম হলেও গ্রামে বেশি। এ কারণে মোটরসাইকেলপ্রেমীরা কেনা থেকে বিরত থাকছেন। তবে ইলেকট্রিক্যাল ভেহিকল (ইভি) বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল বিক্রি কিছুটা বেড়েছে বলে জানান তিনি।
ইয়ামাহার বিজনেস ম্যানেজার হোসেন মোহাম্মদ অপশন বলেন, ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের বিক্রিতে সাধারণত প্রতি মাসে ২৫ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হয়। তবে এ বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে তাদের প্রবৃদ্ধি তিন শতাংশের মতো কমেছে। কিছু ক্রেতা আছে যাদের নিত্যদিনের সঙ্গী মোটরসাইকেল। জ্বালানি সংকটেও তাদের কেউ কেউ বাইক কিনছেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ মোটরসাইকেল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, বিক্রি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমেছে। এতে শোরুম পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে।
রিকন্ডিশন গাড়ি বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে
রিকন্ডিশন গাড়ি বিক্রিও কমেছে। বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকল ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) জানিয়েছে, এ বছর মার্চের তুলনায় এপ্রিলে বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে। যদিও বেচাবিক্রির চূড়ান্ত তথ্য দেয়নি সংগঠনটি।
বারভিডার সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ রহমান সমকালকে বলেন, গত বছরের এ সময়ের তুলনায় এ বছর বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে। গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে বিক্রি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। এ মাসে বিক্রি ৫০ শতাংশে নেমেছে। সামনে এভাবে বিক্রি কমতে থাকলে ব্যবসায়ীদের বিপদ বাড়বে। যদিও তাদের বিক্রির পরিসংখ্যান জানাননি তিনি।
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি কমেছে ৭০-৮০ শতাংশ
উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় অর্থনীতির জেলা বগুড়া। এ জেলায় বিভিন্ন মোটরসাইকেল কোম্পানির ৩২ জন ডিলার রয়েছেন। তারা জানান, জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার পর মোটরসাইকেল বিক্রি ৭০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। বগুড়া শহরের উত্তরা বাইক কর্নারে প্রতি মাসে মোটরসাইকল বিক্রি হতো গড়ে ১৫০টি। গত এক মাসে বিক্রি হয়েছে মাত্র ২৮টি। তাতে করে কর্মচারীর বেতন, শোরুম ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে গিয়ে মাসে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে অন্তত তিন লাখ টাকা।
এভাবে চললে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা দুরূহ হয়ে পড়বে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ও বগুড়া জেলা মোটরসাইকেল ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মোত্তালেব মানিক। তিনি জানান, তাঁর মোটরসাইকেল বিক্রি ৭২ এবং মিনিট্রাক বিক্রি ৩৫ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া ট্রাক্টর, শ্যালো মেশিন, জেনারেটরেও তেলের প্রভাব পড়ে বিক্রি কমেছে।
রংপুর, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁওয়ের চিত্রও প্রায় একই রকম। রংপুর নগরের আইডিয়াল মোড়ের বাজাজ শোরুমের মালিক ইকরামুল হক জানান, জ্বালানি সংকট শুরুর পর গত এক মাসে মাত্রা ছয়টি মোটরসাইকেল বিক্রি করেছেন। কয়েক মাস আগেও প্রতি মাসে গড়ে ৩০টির বেশি মোটরসাইকেল বিক্রি হতো।
রংপুরের কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন ট্রাক্টর, জেনারেটর, শ্যালো মেশিনসহ সব কিছু বেশি বিক্রি হয় রংপুর কৃষি বাজার থেকে। এই বাজারের হেড অব বিজনেস ইমরান আলী জানান, আগে মাসে গড়ে ৬৫ লাখ টাকার তেলচালিত ট্রাক্টর, শ্যালো মেশিন, জেনারেটরসহ অন্যান্য কৃষিযন্ত্র বিক্রি হতো। গত এক মাসে ১০ লাখ টাকার যন্ত্রও বিক্রি হয়নি। এপ্রিলে তেল সংকটে ট্রাক্টরের চারটি অর্ডার বাতিল করেছেন পাঁচজন কৃষক।
ঠাকুরগাঁও জেলায় নতুন ও পুরোনো মোটরসাইকেলের ৫৩টি শোরুম রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত মার্চে ১ হাজার ৭০০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৭ কোটি টাকা। কিন্তু এপ্রিলে বিক্রি মাত্র দুই-তিন কোটিতে নেমেছে। শোরুমগুলোতে ক্রেতা নেই বললেই চলে। এতে দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ আর সংসার চালানো দায় হয়ে গেছে।
কুড়িগ্রামের মোটরসাইকেল, শ্যালো মেশিন ও জেনারেটর-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোটরসাইকেল বিক্রি আগের তুলনায় এক-পঞ্চমাংশ কমেছে। এপ্রিলে শ্যালো মেশিন ও জেনারেটর বিক্রির হার প্রায় শূন্যের কোঠায়। জেলা সদরের কৃষি মেশিনারিজের স্বত্বাধিকারী সেলিম আহমেদ বলেন, এপ্রিলে একটা শ্যালো মেশিনও বিক্রি হয়নি তাঁর। এতে দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ আর সংসার চালানো দায় হয়ে গেছে।
কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকার বৃহৎ পাইকারি মোটরসাইকেলের শোরুম মদিনা টিভিএস ও হোন্ডা গ্যালারির মালিক আবদুস সালাম বলেন, কুমিল্লার লাকসাম, ময়নামতিসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের ১০টি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। বর্তমানে এসব বিক্রয়কেন্দ্রে গড় বিক্রি আগের তুলনায় ৯০ শতাংশ কমেছে।
বিভাগীয় শহরে মোটরসাইকেল বিক্রির চিত্র দেশের অন্য অংশের তুলনায় কিছুটা ইতিবাচক। সিলেট মহানগরী ও মহানগরীর বাইরের বিভিন্ন শোরুম ঘুরে জানা গেছে, মোটরসাইকেল বিক্রি আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে সেটা ৩০ শতাংশের বেশি নয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, সিলেটে মোটরসাইকেলের তুলনায় বেশি বিক্রি কমেছে ডিজেলচালিত জেনারেটর, শ্যালো মেশিন, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর প্রভৃতি মেশিনারিজের।
ময়মনসিংহ মহানগরীসহ উপজেলা শহরগুলোতে ১২০টিরও বেশি মোটরসাইকেলের শোরুম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ময়মনসিংহে মাসে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মোটরসাইকেল বিক্রি হতো। যার বাজারমূল্য ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা। গত দুই মাসে বিক্রি ১০ থেকে ১৫ কোটিতে নেমেছে, বিক্রি কমেছে ৭০-৭৫ শতাংশ। এতে শুধু মোটরসাইকেলের শোরুম মালিকরা বিপদে পড়েছেন তা নয়, মেকানিক (সার্ভিসিং) ও যন্ত্রপাতি ব্যবসায়ীদের অবস্থাও করুণ।
ময়মনসিংহের জিহাদ বাইক সার্ভিসিং সেন্টারের মালিক জিহাদ জানান, আগে দিনে ১৫-২০টি বাইক সার্ভিসিং করলেও এখন দিনে দুই-তিনটির বেশি কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন তোলা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংকট ছড়িয়ে পড়েছে কৃষি খাতেও। ডিজেল ও পেট্রোলচালিত পাওয়ার টিলার, জেনারেটর এবং সেচ পাম্পের বিক্রিও কমে গেছে। শহরের জুবিলীঘাট এলাকার ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন জানান, সামনে ধান কাটার মৌসুম। এর আগে তেলের সংকট না কাটলে কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবসায় বড় ধস নামবে।
হাওরাঞ্চলের কিশোরগঞ্জের জেলা সরণি এলাকার হোন্ডার শোরুমের ম্যানেজার নাঈম আল জিসান জানান, মাসে গড়ে ৪০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হতো। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ১৫টি বিক্রি করেছেন।
একই এলাকার ইয়ামাহা শোরুমের ম্যানেজার নূরে আলম রনি জানান, ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র আটটি মোটরসাইকেল বিক্রি করেছেন। শহরের একরামপুর এলাকার কালাম মেশিনারিজের মালিক আবুল হাসান জানান, আগে গড়ে ৩০০টি জেনারেটর বিক্রি করতেন। ডিজেল সংকটে এবার তেমন বিক্রি নেই।
দক্ষিণাঞ্চলের জেলা গোপালগঞ্জে মোটরসাইকেলের বিক্রি ৫০ শতাংশের বেশি কমেছে। তবে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল বিক্রি ৪০ শতাংশ বেড়েছে। শহরের ত্রিনাথ মেশিনারিজের স্বত্বাধিকারী ত্রিনাথ বিশ্বাস বলেন, সামনে ধান কাটা ও মাড়াই মৌসুম। তাই ধান কাটা ও মাড়াই যন্ত্রপাতি বিক্রি বেড়েছে। কিন্তু ডিজেল, পেট্রোলচালিত পাওয়ার টিলার, শ্যালো মেশিনসহ অন্যান্য মেশিনের বিক্রি নেই বললেই চলে।
পটুয়াখালী ও পিরোজপুরে মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগের তুলনায় মোটরসাইকেল বিক্রি অর্ধেকের বেশি কমেছে।
গত ১৮ এপ্রিল পদ্মাপারের জেলা রাজবাড়ী শহরের বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, ট্রাক্টর ও শ্যালো ইঞ্জিনের বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে। তবে ই-মোটরবাইক এবং জেনারেটরের বিক্রি বেড়েছে।
শরীয়তপুরে শুধু মোটরবাইক নয়, কৃষি খাতেও পড়েছে প্রভাব। জ্বালানিনির্ভর কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন– শ্যালো মেশিন, ট্রাক্টর ও জেনারেটরের বিক্রি প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
একই চিত্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাগুরা, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুরে। মাগুরা জেলা শহরের সৈয়দ আতর আলী সড়কের সুজুকি মোটরসাইকেল শোরুমের মালিক ফারুক আহম্মেদ জানান, গত মাসে তিনি ১০১টি মোটরসাইকেল বিক্রি করলেও ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র তিনটি বিক্রি করেছেন।
বন্ধ হচ্ছে শোরুম
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় বিক্রি নেমেছে প্রায় শূন্যের কোঠায়। সেখানে ইতোমধ্যে মোটরসাইকেলের একটি শোরুম বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
রাজশাহীর বাঘায় বাজাজ কোম্পানির মীম মোটরসের স্বত্বাধিকারী শরিফুল ইসলাম জানান, গত মার্চে মাত্র একটি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। অথচ গত বছরের মার্চে বিক্রি হয়েছিল ২২টি। একই চিত্র নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের।
ধস নেমেছে কৃষি যন্ত্রপাতি বিক্রিতে
নড়াইলের রূপগঞ্জ বাজারের শ্যালো মেশিন বিক্রেতা সুজয় বিশ্বাস জানান, তেল না পেলে কী দিয়ে শ্যালো মেশিন চলবে। অন্য বছর এ সময় ১৫-২০টি বিক্রি হলেও এবার এখনও বিক্রি হয়নি।
মানিকগঞ্জ ওয়ালেজ গেইড এলাকায় আরিফ ট্রেডার্সের মালিক মোস্তফা জামান বলেন, গত বছরের এ সময় ভুট্টা মাড়াই মেশিন বিক্রি হয়েছিল ৮০টি। এ বছর হয়েছে মাত্র ১৫টি।
শরীয়তপুর জেলার শরীয়তপুর মিশনারির স্বত্বাধিকারী নুরে আলম বলেন, কৃষি খাতে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের বিক্রি প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। এতে পুরো কৃষি ব্যবস্থায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের এস এস রোডে ওহাব ট্রেডার্সের মালিক নাঈম আহমেদ বলেন, ডিজেল সংকটে অনেকেই শ্যালো ইঞ্জিনকে বিদ্যুৎ বা সোলার ব্যবস্থায় রূপান্তর করছেন।
বিক্রি বাড়ছে চার্জিং স্কুটি ও বৈদ্যুতিকে মোটরসাইকেলের
জ্বালানি সংকটে ক্রেতাদের মধ্যে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলে আগ্রহ বেড়েছে। মেহেরপুর শহরের ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল শোরুমের স্বত্বাধিকারী রোহিত ইসলাম বলেন, আগের তুলনায় তাদের ইলেকট্রিক বাইকের বিক্রি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আগে যেখানে মাসে পাঁচ-ছয়টি বিক্রি হতো, এখন ১৫ থেকে ২০টি স্কুটি বিক্রি হচ্ছে।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা)
- বিষয় :
- জ্বালানি সংকট
- মোটরসাইকেল
