ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পোশাক কারখানায় গড়ে ৩ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে

সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএ

পোশাক কারখানায় গড়ে ৩ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে
×

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

জ্বালানি সংকটে পোশাক খাতে উৎপাদন চরম ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো শিল্প এলাকায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। গড়ে দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে লোডশেডিং চলছে তিন ঘণ্টার মতো। বাড়তি জ্বালানি কেনা বাবদ উৎপাদন খরচ বেড়েছে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে ক্রেতারা নতুন রপ্তানি আদেশ কমিয়ে দিচ্ছেন, যার দীর্ঘ মেয়াদি অভিঘাত পড়বে শিল্পে।
গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ বক্তব্য তুলে ধরেছে পোশাক খাতের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ। ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এক্সিবিশন (বিটিকেজি) আয়োজন সামনে রেখে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, প্রদর্শনীর সহ-আয়োজক তাইওয়ানভিত্তিক ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক স্পেন্সার লিন ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান অ্যালিয়েন্টের প্রধান নির্বাহী রুবাইয়াত আহসান।

চার দিনের এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী আগামী বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় শুরু হবে। প্রদর্শনীতে বস্ত্র ও পোশাক খাতে প্রযুক্তি ও সক্ষমতা তুলে ধরা হবে। প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা জাপান, ইউরোপ ও এশিয়ার ৩০ দেশের এক হাজার প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে। প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিকেএমইএ, বুটেক্স ও টেক্সটাইল টুডের যৌথ উদ্যোগে তিনটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এতে শিল্পের বর্তমান অবস্থা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ২ মে প্রদর্শনী শেষ হবে। 
বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, শিল্পকারখানায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ফিলিং স্টেশন থেকে কনটেইনারে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানাগুলো বিপাকে পড়ছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। কোনো কোনো এলাকায় ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে সময়মতো রপ্তানি করা যাচ্ছে না। আকাশপথে পণ্য পাঠাতে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। শ্রমিকদের পূর্ণ মজুরি দিতে হচ্ছে। জ্বালানি কেনা ও জ্বালানির বর্ধিত দামের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ অন্তত ২০ শতাংশ বেড়েছে। 
শিল্পের অন্যান্য সংকট প্রসঙ্গে বিকেএমইএ সভাপতি ব্যাংকিং খাতের অসহযোগিতা, কাস্টমসের নানা হয়রানি ও প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে চাহিদা কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। পোশাকশিল্পে বিশেষ ব্যবস্থায় ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে ফজলে শামীম এহসান বলেন, কিছু এলাকায় ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি পাচ্ছেন তারা। তবে অনেক এলাকায় এখনও এ ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি।
সংকটের মধ্যে প্রদর্শনী আয়োজনের যুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফজলে শামীম এহসান বলেন, চলমান সংকটের মধ্যেও এ ধরনের আয়োজন বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করবে। 

আরও পড়ুন

×