কারাবন্দি চার সাংবাদিকের মুক্তি চেয়েছে সিপিজে
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে চিঠি
সংবাদকর্মীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০২:৪৮
কারাবন্দি চার সাংবাদিকের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠনটি এ দাবি জানিয়ে গতকাল সোমবার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে কারাবন্দি সাংবাদিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়।
যে চার সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করা হয়েছে, তারা হলেন–মোজাম্মেল হক বাবু, শ্যামল দত্ত, ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, যাদের ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিপিজের চিঠিতে বলা হয়েছে, এই চার সাংবাদিককে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে ১৮ মাসের বেশি সময় কারাগারে রাখা হয়েছে। সিপিজের নথিপত্র, স্বজনদের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা বলছে, তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। কোনো অভিযোগপত্রও (চার্জশিট) দেওয়া হয়নি। আটক রাখার ধরন দেখে মনে হয়, মূলত সাংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই তাদের এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে।
চিঠিতে কারাবন্দি সাংবাদিকদের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই শ্যামল দত্তের স্ট্রোক হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয়নি। তাঁর হৃদরোগ এবং প্রচণ্ড স্লিপ অ্যাপনিয়ার (ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা) ইতিহাস রয়েছে, যা কারা হেফাজতে আমলে নেওয়া হয়নি।
মোজাম্মেল বাবুকে সেপ্টেম্বরের একই দিনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের শেষের দিকে তাঁর প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং একটি বড় অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে পরবর্তী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা তিনি পাচ্ছেন না, যা তাঁকে ফের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রেখেছে।
ফারজানা রূপাকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে দুই সপ্তাহের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য সংরক্ষিত কনডেম সেলে রাখা হয়েছিল।
সিপিজে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিপিজে আশা প্রকাশ করেছে, বর্তমান সরকারের আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে অবিলম্বে চার সাংবাদিকের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
পরিবারের সদস্যরা সমকালকে যা বললেন
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত অসুস্থ। সমকালকে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় শ্যামল দত্ত ঘুমের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছেন না। প্রায় সময়ই তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। তাঁর ওজনও কমে গেছে। শ্যামল দত্তের হার্টে ব্লক রয়েছে। তিনি ডায়াবেটিক রোগেও আক্রান্ত।
একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা দম্পতিকে ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শাকিল আহমেদ উচ্চ রক্তচাপ ও কার্ডিয়াক সমস্যায় ভুগছেন। ফারজানা রূপা খুবই অসুস্থ। তিনি উচ্চ রক্তচাপ ও আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগছেন। তিনি মাঝে মধ্যেই হঠাৎ করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন বলে পরিবার থেকে জানানো হয়েছে।
