আইইউবিতে আধুনিক মাশরুম চাষ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ছবি : সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০২:৫৬
ঢাকার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি) আধুনিক মাশরুম চাষ পদ্ধতি ও এর টেকসই বিপণন নিয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ সায়েন্সেস বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২০ জন মাশরুম চাষি ও উদ্যোক্তা অংশ নেন। এতে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা প্রকাশ করেন।
ক্ষতিকর ছত্রাকের সংক্রমণ এবং বিপণন ব্যবস্থার অভাবকে নতুন উদ্ভাবন ও সম্ভাবনা মাশরুম চাষে প্রধান বাধা হিসেবে এই কর্মশালায় চিহ্নিত করা হয়।
এই সমস্যা সমাধানে আইইউবির লাইফ সায়েন্সেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জীবুন্নাহার খন্দকার দীর্ঘ তিন বছরের গবেষণায় একটি নতুন চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এই পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ক্ষতিকর ছত্রাকের বিস্তার রোধ করে উৎপাদন গুণ বাড়ানো সম্ভব।
এতে তিনি কর্মশালার প্রশ্নোত্তর সেশনে উদ্যোক্তাদের সামনে এই পদ্ধতিটির বাস্তব ধারণা তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক রেজাউল করিম সিদ্দিক।
এ সময় তিনি বলেন, চল্লিশ বছরেও মাশরুম বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে সেভাবে পৌঁছায়নি। এটি খাদ্য কি না সাধারণ মানুষের মধ্যে, তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে। ভালো মানের বীজ না পাওয়ায় এবং দুর্বল বিপণন ব্যবস্থার কারণে এটি এখনো কেবল উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের মধ্যেই জনপ্রিয়।
প্রায় ২০ বছর মাশরুম চাষের সঙ্গে যুক্ত অভিজ্ঞ উদ্যোক্তা ও বগুড়ার ‘প্রিয়জন মাশরুম ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা জামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, মাশরুম চাষে ঝরে পড়ার হার প্রায় ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ। আগের কয়েক লাখ উদ্যোক্তার মধ্যে এখন কেবল গুটিকয়েক উদ্যোক্তা মাশরুম চাষ চালিয়ে যাচ্ছে।
একটি পরিবার প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকার মাশরুশ খেলে অনেক দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
কর্মশালায় ড. জীবুন্নাহার খন্দকার তার উদ্ভাবন করা নতুন পদ্ধতিটি উপস্থাপন করে বলেন, মাশরুম চাষ একটি জ্ঞানভিত্তিক ব্যবসা। এখানে ভালো ফলন পেতে হলে নিয়মিত শেখা দরকার এবং তা থেকে চাষের পদ্ধতিতে নিয়মিত পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইইউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ. লুন্ড, স্কুল অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস-এর ডিন ড. কে আয়াজ রাব্বানী, এবং লাইফ সায়েন্সেস বিভাগের প্রধান ড. মো. মাহমুদুল হাসান সোহেল।
- বিষয় :
- কর্মশালা
