আলোচনায় আনু মুহাম্মদ
‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করছে বিএনপি সরকার
আনু মুহাম্মদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০৮:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
‘সবার আগে বাংলাদেশ’– স্লোগান দিলেও বিএনপি সরকার মূলত ‘সবার আগে আমেরিকা’ (আমেরিকা ফার্স্ট) নীতিতে চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ।গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত ‘বিএনপি সরকারের আড়াই মাস: পর্যালোচনা, উদ্বেগ ও দাবিনামা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পেট্রোবাংলা বা বিমানের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে এলএনজি আমদানি, বোয়িং কেনা ও বন্দর ব্যবহারের জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ইতিহাসের অংশ। তাই এ নিয়ে সব সময়ই আলোচনা হতে হবে। একাত্তর বা চব্বিশ– যার যে দায় রয়েছে, তাকে তা গ্রহণ করতে হবে। রাষ্ট্র যখন শিক্ষা, জ্বালানি ও প্রশাসনের মতো মৌলিক খাতের সংস্কার উপেক্ষা করে, তখন তা সামাজিক ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করে। কাঠামোগত বৈষম্য ও আস্থার সংকট তৈরি করে। এই সংকট উত্তরণে অবিলম্বে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা, সম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জনগণের ইতিহাসের চেতনা ধারণ করে একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো সংসদে আলোচনা ছাড়াই বাস্তবায়ন করায় সরকারের সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে খলিলুর রহমানকে নিয়োগ করা হলো এবং বিডা চেয়ারম্যান হিসেবে আশিক চৌধুরীকে রাখা হয়েছে! অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তারাই বন্দর চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এলএনজি ও বোয়িং আমদানি চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন।
তিনি বলেন, তারা কেন এ ধরনের একটি অবিশ্বাস্য ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষর করলেন, যার জন্য আমাদের দীর্ঘ মেয়াদে ২০-৩০ বছর ভুগতে হবে? তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বা তদন্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উল্টো তাদের আরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারের জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে ও ২০০৬ সালের ফুলবাড়ী চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর বদলে সরকার করপোরেট লবিস্টদের প্রভাবে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দিতে ‘উৎপাদন বণ্টন চুক্তি’ (পিএসসি) সংশোধন করছে। উন্মুক্ত খনি নিষিদ্ধ করার চুক্তি থাকার পরও সরকার আবারও কয়লা উত্তোলনের দিকে ঝুঁকছে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা নিত্রা, সহকারী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু, লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও অ্যাডভোকেট মানজুর আল মতিন।
- বিষয় :
- আনু মুহাম্মদ
