শাপলা চত্বরের ঘটনায় ৫৮ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ১৯:১৫ | আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ | ০৮:২৩
১৩ বছর আগে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। চিফ প্রসিকিউটর জানান, নিহতদের মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় ১ জন রয়েছেন।
মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “তৎকালীন সরকারের উদ্দেশ্য ছিল, এই ইসলামিক গ্রুপটাকে বা এই সংগঠনটাকে একেবারেই নিধন করে দেওয়া।”
তিনি বলেন, এ মামলায় সুপিরিয়র কমান্ড হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান আসামি হচ্ছেন। আমরা ইতিমধ্যে তার সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছি। তিনি তো পরিকল্পনাই করেছেন। যাদের যাদের সংশ্লিষ্টতা আছে, অন্যান্য বাহিনী প্রধানদের আমরা সবাইকে নিয়ে আসব। এটা সুপরিকল্পিত গণহত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, সাবেক সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে তৎকালীন পুলিশ প্রধান, পুলিশ কমিশনারসহ আওয়ামী লীগের অনেকেই ওই ঘটনায় জড়িত। তদন্তের কাজ প্রায় ৯০ ভাগ সমাপ্ত হয়ে গেছে। আশা করছি আগামী ৭ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।
তিনি বলেন, শাপলা চত্বরে নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হয়েছে। অনেকের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হয়নি। কিন্তু তদন্তের সময় তাদের কবর পরিদর্শন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তদন্ত সংস্থার লোকজন কথা বলেছেন। আসামিদের নাম তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আসামির সংখ্যা ৩০-এর নিচে হবে না। আর ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার আছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হলে অন্যান্য মামলাগুলো এখানে চলে আসবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।
বিষয়টির আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, আমাদের আইনটাই বলছে যে, যদি কোনো ইসলামিক গ্রুপ বা কোনো টার্গেটেড কিলিং হয় এবং এটা যদি সিস্টেমেটিক ও ওয়াইডস্প্রেড হয়, অবশ্যই এই আইনের আওতায় আসবে। আমি তো দেখি যে সবগুলোর উপাদানই এর মধ্যে আছে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত ছয় আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
পবিত্র কোরআন ও মহানবী (সা.)-এর প্রতি অবমাননার প্রতিবাদ এবং ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচি ঘোষণা করে হেফাজতে ইসলাম। ওই দিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আলেম, মাদরাসাশিক্ষার্থী ও সমর্থকরা রাজধানীতে সমবেত হন। কর্মসূচি শেষে তারা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেন।
সেদিন দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করলেও সন্ধ্যার আগেই দুজনের মরদেহ সমাবেশস্থলের অস্থায়ী মঞ্চের সামনে আনা হয়। পরে মধ্যরাতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালালে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। গুলি, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের মধ্যে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় সমাবেশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বরাবর অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ২১ জনকে আসামি করা হয়।
- বিষয় :
- শাপলা চত্বর
- হেফাজতে ইসলাম
- চিফ প্রসিকিউটর
