ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শিল্পকলায় নান্দনিক প্রদর্শনী ‘ধারণ’

ঐতিহ্যের শিকড়ে সমকালের স্পন্দন 

ঐতিহ্যের শিকড়ে সমকালের স্পন্দন 
×

ছবি : সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৩:০০

বিশাল গ্যালারির দরজায় পা রাখতেই যেন আবহমান বাংলার এক জাদুকরী জগতে প্রবেশ করা যায়। চারদিকে ছড়িয়ে আছে শিকড়ের ঘ্রাণ। একপাশে সারি সারি রাখা মাটির তৈরি রঙিন হাতি, ঘোড়া আর বাঘের পুতুল। কিছুদূর এগোলেই চোখে পড়ে বাঁশের সুনিপুণ বুননে তৈরি ঝুলন্ত সব মুখোশ। আবার একটি দেয়ালে বিশালাকৃতির দুটি নারী ও পুরুষের মুখোশের পাশে শোভা পাচ্ছে গ্রামীণ প্রজ্ঞার প্রতীক ‘খনার বচন’ এবং রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের অমর পঙ্‌ক্তিমালার নান্দনিক উপস্থাপন।

গ্যালারির আরেক পাশের দেয়ালে বিশাল প্রজেক্টরের পর্দায় চলছে অভিজ্ঞ রিকশা পেইন্টারদের জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র। মাটির পুতুল, ঐতিহাসিক লোকগাথার পটচিত্র, রিকশাচিত্র আর নকশিকাঁথার এক অপূর্ব ক্যানভাসে পুরো গ্যালারি যেন এক টুকরো বাংলাদেশ।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় চারুকলা বিভাগের আয়োজনে বর্ণিল এই লোকশিল্প প্রদর্শনীর নাম ‘ধারণ’। লোকশিল্পের চিরায়ত রূপটিকে কেবল অতীতের ফ্রেমে বন্দি না রেখে, সমকালীন প্রেক্ষাপটে তাকে নতুন করে উপস্থাপন এবং এর শিল্পমূল্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। প্রদর্শনীর কিউরেটর জিন্নাতুন জান্নাত এবং সহকিউরেটর আয়শা নাজমিন নিপুণভাবে অতীত-বর্তমান, গ্রাম-শহর এবং শিল্পী ও দর্শকের মাঝে একটি অর্থবহ মেলবন্ধন তৈরির প্রয়াস চালিয়েছেন।

প্রদর্শনীটিতে মূলত পাঁচটি ভিন্ন ধারার লোকশিল্পকে এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে। নকশিকাঁথা, বাঁশশিল্প, পটচিত্র, মাটির পুতুল ও রিকশাচিত্র। প্রতিটি শিল্পমাধ্যম তার নিজস্ব উপকরণ, অভিজ্ঞতা আর বর্ণনার ঢঙে এক বহুমাত্রিক শিল্পজগৎ উন্মোচন করেছে। কৃষিজীবী সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত শিল্পীরা ঐতিহ্যের সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহার করলেও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এতে যুক্ত হয়েছে সমসাময়িক চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উপকরণও। ফলে লোকশিল্প এখানে নিছক পুরোনো ঐতিহ্য নয়, বরং হয়ে উঠেছে জীবনঘনিষ্ঠ ও পরিবর্তনশীল এক সংস্কৃতির দর্পণ।

এই প্রদর্শনীর একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন কর্মশালা থেকে বাছাই করা রিকশাচিত্র, বাঁশশিল্প ও নকশিকাঁথার নজরকাড়া কাজ। ঐতিহ্যের সঙ্গে সমকালীন বাস্তবতার এক অপূর্ব রসায়ন চোখে পড়ে এই শিল্পকর্মগুলোতে। তবে দর্শকদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আঁকা রিকশা পেইন্টগুলো। এতে উঠে এসেছে জুলাই আন্দোলনের আগুনঝরা নানা স্লোগান। শিল্পীদের ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে প্রতিবাদের ভাষা যুক্ত হয়ে এতে স্মৃতি, পরিচয় ও প্রতিরোধের ডাক ধ্বনিত হয়েছে। 

প্রদর্শনীর সময়সীমা ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। জাতীয় চিত্রশালার দ্বিতীয় তলার ৪ নম্বর গ্যালারিতে চলছে এই আয়োজন।

আরও পড়ুন

×