সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে র্যাবের জন্য কেনা হচ্ছে ১৬৩ গাড়ি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ | ০৮:০১ | আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ | ০৮:২৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং র্যাবের অভিযানিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ১৬৩টি গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। উন্মুক্ত দরপত্রের বদলে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১২২ কোটি ২৭ লাখ টাকায় এসব গাড়ি কেনা হবে। গাড়ি সরবরাহ করবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। আজ বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। কমিটি অনুমোদন দিলে শুরু হবে পরবর্তী কার্যক্রম।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘র্যাব ফোর্সেসের অভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক সভায় অনুমোদন হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। যানবাহনের সংকট দূর করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাবকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করে তুলতেই এ প্রকল্প নেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জরুরি ভিত্তিতে তিনটি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং ৬০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস কেনা প্রয়োজন। তবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ক্রয় প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনা হচ্ছে।
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এবার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ক্রয় কমিটিতে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
আরও যেসব প্রস্তাব উপস্থাপন হতে পারে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, র্যাবের গাড়ি কেনার পাশাপাশি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য দুই কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এই তেল কিনতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমাত্র কারিগরি ও আর্থিকভাবে গ্রহণযোগ্য দরদাতা হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার পিটি ট্রিনিটি চায়া এনার্জিকে নির্বাচন করা হয়েছে। প্রতি লিটার ১.১৫ ডলার দরে মোট খরচ ধরা হয়েছে ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এতে প্রতি লিটার তেলের গড় খরচ পড়ছে ১৭৮ টাকা ৫৬ পয়সা, যা স্থানীয় বাজারদরের চেয়ে প্রায় ১৬ টাকা ৪৪ পয়সা কম। জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভোজ্যতেল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ কোটি লিটার। ইতোমধ্যে ১২ কোটি ১৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪ লিটার তেল কেনা হয়েছে।
এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস প্রকল্পে ভূমি উন্নয়ন কাজের অতিরিক্ত ১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ের আরও একটি প্রস্তাব করা হতে পারে। কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন দিলে এতে মোট চুক্তিমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১৯৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। প্রকল্প এলাকায় জলাশয় ও অসমতল ভূমির কারণে অতিরিক্ত কাজ যুক্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে শেরেবাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকায় ১২ তলা অফিস ভবন নির্মাণে ১০৮ কোটি ৭০ লাখ ৬৬ হাজার ৪৪৪ টাকার আরেকটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে। এই প্রকল্পের উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নেওয়া ১৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কুশলী নির্মাতা লিমিটেড সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ছয়টি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল হিসেবে ৭১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা পরিশোধের প্রস্তাব আনা হতে পারে। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত উৎপাদনকালের এই বিল এখনও পরিশোধ করা হয়নি।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট ও ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় ঢাকা-ময়মনসিংহ অঞ্চলে একাধিক উপকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।
- বিষয় :
- গাড়ি ক্রয়
- র্যাব
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
