জনগণের কল্যাণে নির্ভয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন
বাসস
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ | ০৮:৪৮ | আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ | ১২:২৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। তাই দেশ ও জনগণের কল্যাণে নির্ভয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। সরকার এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে জনমনে ধীরে ধীরে বিশ্বাস গড়ে ওঠে। এই ব্যাপারেও আপনারা যত্নবান থাকবেন বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
গতকাল বুধবার রাতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের যে কোনো আইনগত ও মানবিক উদ্যোগে সরকার সহায়তা দেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়। এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম। আমি একটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের সমস্যা অসংখ্য, তবে সম্ভাবনাও কম নয়। দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড যেটি আছে, এর সুযোগ নিয়ে আমরা যদি তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি, তাহলে এই জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত হবে।
জনপ্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন, যথাসম্ভব মানুষের উপকার করার মানসিকতা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাই। রাষ্ট্র ও সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে জাগিয়ে রাখতে আমাদের সম্ভাব্য সকল উপায় বের করা প্রয়োজন। আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যেসব ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম, সেই ইশতেহারে দেশের জনগণ সমর্থন জানিয়েছেন। সুতরাং এটি এখন আর বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয়। বরং এটি এখন দেশের জনগণের ইশতেহার। এটি এখন জনগণের জন্য সরকারের ইশতেহার।
ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন, এখন ইশতেহার বাস্তবায়নের পালা। জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের কাজ বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায়। সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনের সাফল্য শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়। জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা হচ্ছেন মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক দূত।
তারেক রহমান বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সঙ্গে আন্তরিক ব্যবহার করলে তা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে বৃদ্ধি করে। আর যদি হয়রানির শিকার হন, তাহলে তিনি শুধু একটি সেবা থেকেই বঞ্চিত হন না; একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস নষ্ট হয়। সুতরাং রাষ্ট্র ও সরকারের সঙ্গে জনগণের আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে আপনাদের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জনপ্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সরকারপ্রধান বলেন, প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতেই হবে আমাদের। সেই কাজটি আপনাদের ভূমিকার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে, বলা যায়। আমাদের সরকার এমন একটি জনমুখী সরকার, যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া সম্মানের সঙ্গে দ্রুত সেবা পাবেন। এ বিষয়টি আপনারা নিশ্চিত করতে পারেন।
তিনি বলেন, আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। একজন বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ মানুষ যখন আপনাদের অফিসের সামনে কিংবা সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন তাদের বিষয়গুলো আইনগত উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করাও খুব জরুরি। সেবাগ্রহীতার প্রতি আপনাদের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা তাদের কাছে রাষ্ট্র ও সরকারের ব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা জন্ম দেয়। হয়তো এই বিষয়গুলো আমাদের অনেকের কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু জনমনের প্রভাব অনেক বেশি।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই গাড়ি চালিয়ে সচিবালয়ের অফিস থেকে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে গিয়ে যোগ দেন। এ সময় গাড়িতে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়। বক্তব্যের পর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে অংশ নেন তিনি।
বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার বক্তব্য দেন। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য, তিন বাহিনীপ্রধান উপস্থিত ছিলেন।
গাড়িবহর থামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার নিজের গাড়িবহর থামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিলেন। গতকাল সকালে রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারওয়ান বাজার প্রান্তে এ ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর গুলশানের বাড়ি থেকে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে যা্ওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে।
- বিষয় :
- জনগণের ক্ষমতায়ন
- তারেক রহমান
- ডিসি সম্মেলন
