অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আগ্রহ আছে, প্রয়োজন সহায়ক পরিবেশ: হাসিবুর রহমান
বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬
ঢাকায় প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স’
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ১৯:০৭
মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করার মনোভাব, সাহস ও আগ্রহ সাংবাদিকদের রয়েছে। তবে এত বিপুল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও গণমাধ্যমে কেন পর্যাপ্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখা যায় না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। শুক্রবার সকালে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
হাসিবুর রহমান জানান, সম্মেলন উপলক্ষে ঘোষিত ফেলোশিপের জন্য ৬০ জনকে নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হলেও সেখানে মোট ১৮৮টি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ধারণাপত্র জমা পড়ে। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করার মানসিকতা ও সাহস সাংবাদিকদের আছে। তারা এটি করতে চান। কিন্তু এত বড় সংখ্যক আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও কেন পত্রিকা বা টেলিভিশনে সেই পরিমাণ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা দেখা যায় না, সেটি আমাদের খুঁজে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে সাংবাদিকতার পথ কখনই মসৃণ ছিল না। বিশ্বজুড়েই সাংবাদিকতা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তার ভাষায়, ‘সাংবাদিকতা প্রশ্ন করে, আর প্রশ্ন করতে গিয়েই অনেক অস্বস্তিকর সত্য সামনে আসে।’
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে এমআরডিআই নির্বাহী পরিচালক বলেন, এবারের ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ (আরএসএফ) সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম। এ অবস্থার উন্নয়নে করণীয় নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।
স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে হাসিবুর রহমান বলেন, কোনো নিউজরুম বা সংবাদমাধ্যম বাইরের কারও দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে না। সংবাদমাধ্যমকে তার নিজস্ব নীতি, নৈতিকতা ও গাইডলাইন অনুসারেই পরিচালিত হতে হবে।
তিনি বলেন, ভালো সাংবাদিকতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নিতে স্ব-নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন যেন তথ্যভিত্তিক ও নির্ভুল হয়, সেজন্য নিউজরুমের ভেতরে শক্তিশালী যাচাই ও জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পেছনে দীর্ঘ ও জটিল কাজ থাকে। কিন্তু যথাযথ যাচাই-বাছাই ও সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ার কারণে সেসব প্রতিবেদন শেষ পর্যন্ত ঝুঁকিতে পড়ে না।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অভিজ্ঞতা থেকে অংশগ্রহণকারীরা নতুন কিছু শিখতে পারবেন। সম্মেলনের আয়োজন প্রসঙ্গে হাসিবুর রহমান বলেন, এমআরডিআই-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত বছরের ৫ মে থেকে পরিকল্পনা শুরু হলেও চূড়ান্তভাবে মার্চ মাসে এ সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি জানান, শুরুতে ৪০০ জন অংশগ্রহণকারীর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪৭ জনে। এটি আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বড় আয়োজন। দুই দিনের এ সম্মেলনে কিছু ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে, সেগুলো সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা করছি।
সম্মেলন আয়োজনে সহযোগিতাকারী অংশীদারদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান এমআরডিআই নির্বাহী পরিচালক। তিনি জানান, সুইডেন, জাইজেন ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে। এছাড়া ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) প্লাটিনাম পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করছে। দীর্ঘদিনের অংশীদার ফোজো মিডিয়া ইনস্টিটিউট এবং সেফবক্সও এ আয়োজনে যুক্ত রয়েছে।
এমআরডিআই-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৮ ও ৯ মে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালসহ ১০টি দেশের সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনের ১২টির বেশি সেশনে ২০ জন দেশি-বিদেশি আলোচক অংশ নেবেন। এছাড়া ৬১ জন সাংবাদিক ফেলোশিপ অর্জন করেছেন এবং তারা নিজেদের অনুসন্ধানী সংবাদের ধারণাপত্র সম্মেলনে উপস্থাপন করবেন।
