ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টিসিবির পণ্যের জন্য ভিড়

‘ধাক্কাধাক্কিতে মনে হইছে জানডা বাইর হই গেল’

‘ধাক্কাধাক্কিতে মনে হইছে জানডা বাইর হই গেল’
×

নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে হাঁসফাঁস সাধারণ মানুষের। তাই একটু কম দামে পণ্য পাওয়ার আশায় টিসিবির গাড়ির সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে মানুষ। তীব্র রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে মেলে যৎসামান্য। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরে সরকারি কলেজের পাশে -সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ০৮:৪০ | আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ | ১৮:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

রুনা বেগমের হাতে সাদা চটের ব্যাগ। কড়া রোদে কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে তাঁর। তাতে ভিজছে গায়ের জামা-ওড়না। ওড়না দিয়ে মুখের ঘাম মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টায় আইছি। পাঁচ ঘণ্টা পর পাইলাম। ধাক্কাধাক্কিতে মনে হইছে জানডা বাইর হই গেল।’ মঙ্গলবার সকালে মিরপুর-২ নম্বরে মিরপুর সরকারি কলেজের পাশে টিসিবির পণ্য কেনার পর এসব কথা বলেন ৪৮ বছরের রুনা। সেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রি করা হচ্ছিল। 

সরেজমিন দেখা গেছে, দীর্ঘ সময়ে ট্রাকের পেছনে লম্বা সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন রুনা বেগম। সারিতে পুরুষের চেয়ে নারীর ভিড় বেশি থাকায় কার আগে কে পণ্য নেবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে একরকম যুদ্ধ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত বেলা আড়াইটার দিকে তিনি পণ্য কিনতে সক্ষম হন। 

পণ্য কেনার পর ছবি তুলতে চাইলে রুনা বেগম হাতজোড় করে ছবি না তোলার অনুরোধ করেন। পরে সমকালের পরিচয় দিয়ে কত টাকা বাঁচল জানতে চাইলে তাঁর সোজা জবাব, ‘কিছু না কিছু তো বাঁচল। এটাও-বা কে দেয়!’ আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘বড় বিপদে পড়ে আইছি। পাঁচ মাসের একটি নাতনি আছে। বাচ্চাটার জন্য খুব মায়া লাগে। তার মুখের দিকে চাইলে ঘরে বইসা থাকতে পারি না। মেয়ে হওয়ার পর ছেলেটা সংসারের কোনো খোঁজ নেয়নি। এখন বউ-নাতনি আমার ঘাড়ে।’

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত সোমবার থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে ট্রাকে করে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সাধারণ ক্রেতারা টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে দুই কেজি ভোজ্যতেল, এক কেজি চিনি ও দুই কেজি মসুর ডাল কিনতে পারছেন। সব পণ্য একসঙ্গে কেনার জন্য ক্রেতার খরচ হবে ৪৮০ টাকা। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত ভোজ্যতেল ১৯৯ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা এবং প্রতি কেজি মসুর ডাল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজার থেকে এসব পণ্য কিনতে লাগে ৭০৩ থেকে ৭১৮ টাকা। সেই হিসাবে একজন ক্রেতার সাশ্রয় হচ্ছে ২২৩ থেকে ২৩৮ টাকা। এই টাকা সাশ্রয়ের জন্য টিসিবির ট্রাকের পেছনে ক্রেতাদের করতে হয় দীর্ঘ সংগ্রাম। অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তারপরও বাজারদরের চাপ সামলাতে টিসিবির ট্রাক এখন অনেক পরিবারের শেষ ভরসা। টিসিবির এই বিক্রি চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। তবে শুক্রবার বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

 

আরও পড়ুন

×