ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বেওয়ারিশ লাশের পরিচয় শনাক্তে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ

বেওয়ারিশ লাশের পরিচয় শনাক্তে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ
×

 সাহাদাত হোসেন পরশ

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৭:৪২ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ০৮:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

মৃত্যুর পর পরিচয় ছাড়াই প্রতিদিন দাফন হয় অনেক লাশ। স্বজনের শেষ স্পর্শ ছাড়া তাদের পরিচয় ‘অজ্ঞাত লাশ’। প্রযুক্তির এই যুগেও বছরের পর বছর তাদের পরিচয় জানা সম্ভব হচ্ছে না। নিখোঁজ থাকার পর অনেকের স্বজন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দিনের পর দিন চলে জিডির তদন্ত। আবার কখনও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধার হয় অজ্ঞাত লাশ। সেই লাশের পরিচয় শনাক্তে পুলিশের তরফে সামাজিক মাধ্যমে ছবি প্রকাশ ও বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়। এর পরও মেলে না অনেক লাশের পরিচয়। 

নিখোঁজের জিডি ও অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে একই সূত্রে রাখার প্রস্তাব এসেছে। এ জন্য আলাদা ডেটাবেজ করার কথাও বলা হয়েছে। যাতে ভুক্তভোগীর স্বজন ওই তথ্য দেখার সুযোগ পান। এতে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা কমে আসতে পারে। অনেকে দ্রুত তাদের নিখোঁজ স্বজনকে খুঁজে পাবেন। পুলিশ সপ্তাহের চতুর্থ দিন গতকাল বুধবার আইজিপির সঙ্গে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। সেখানে নিখোঁজের জিডি ও অজ্ঞাত লাশের ব্যাপারে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান মোস্তফা কামাল এমন মত তুলে ধরেন। গতকাল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 

বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, পিবিআই, পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা দেশের অপরাধের বর্তমান বাস্তবতা, আগামীর চ্যালেঞ্জ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতির ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে মতামত তুলে ধরেন। 

বৈঠকে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তার ডিএনএ নমুনা সিআইডি সংরক্ষণ করে। নিখোঁজের ঘটনায় স্বজনের পক্ষ থেকে ডিএনএ নমুনা যাতে সহজভাবে করা যায়, এর প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ যাতে দরকার হলে নিজের টাকা খরচ করে ডিএনএ পরীক্ষা করতে পারেন– এমন ব্যবস্থা রাখার কথাও উঠে আসে। 
এদিকে বর্তমানে নিখোঁজের জিডি ও অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনায়  করা মামলার তদন্ত অনেক সময় বিচ্ছিন্নভাবে করা হয়। সমন্বিত ডেটাবেজ না থাকায় একে অন্যের তথ্য ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানেন না। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পিবিআইর প্রধান মোস্তফা কামাল গতকাল রাতে সমকালকে বলেন, অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়। কোনো লাশ যাতে অজ্ঞাত না থাকে, সেই চেষ্টা আমাদের করে যেতে হবে। নিখোঁজের জিডি, অজ্ঞাত লাশের ব্যাপারে ডেটাবেজের কথা  বলেছি। পুলিশ মহাপরিদর্শক আমার প্রস্তাবে একমত পোষণ করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করার কথা বলেছেন। 

জানা গেছে, এক যুগে গড়ে ১১শর বেশি অজ্ঞাত লাশ দাফন করেছে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। এনআইডি সার্ভারে সংরক্ষিত আঙুলের ছাপ মিলিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্ত এবং মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে অনেক লাশের পরিচয় শনাক্ত করছে পিবিআই। এ কারণে ২০১৯ সালে থেকে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা কমছে। পিবিআই গত পাঁচ বছরে এক হাজার ৫৭৭ পুরুষ ও ৫৮৪  অজ্ঞাতনামা নারীর মৃতদেহ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। একই সময়ে পাঁচ হাজার ৫৭৭টি অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তাই প্রশ্ন উঠেছে, যে প্রযুক্তি অনেক অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে, আবার একই প্রযুক্তিতে কেন অনেক লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না?  

পিবিআইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিখোঁজ ব্যক্তি ও অজ্ঞাত মৃতের তথ্য একটি নিয়মিত আপডেট করে ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। ফিঙ্গারপ্রিন্টভিত্তিক পরিচয় শনাক্ত করা বিশ্বজুড়ে প্রচলিত কার্যকর ব্যবস্থা। এর  মাধ্যমে অনেকের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ার কিছু বাস্তবভিত্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে– মৃত ব্যক্তির বয়স ১৮ বছরের কম হলে তিনি এনআইডি ডেটাবেজভুক্ত ভোটার নন।  

শেষ হলো পুলিশ সপ্তাহ 
আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ বাহিনী গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্তের মধ্য দিয়ে গতকাল পুলিশ সপ্তাহ শেষ হয়েছে। পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মঅধিবেশনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, সাইবার নিরাপত্তা জোরদারকরণ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, কমিউনিটি পুলিশিং, জনসেবার মানোন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। 
 

আরও পড়ুন

×