ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপে জোর

প্রধানমন্ত্রীর সামনে খসড়া বাজেট উপস্থাপন করলেন অর্থমন্ত্রী

মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপে জোর
×

তারেক রহমান

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৮:৪৭ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ০৯:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের কৌশল নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি।

গতকাল বুধবার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় আগামী অর্থবছরের বাজেটের আয়-ব্যয়ের খসড়া রূপরেখা উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নানা বিষয়ে নির্দেশনা দেন। সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা দিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখা, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা, শিক্ষাকে আনন্দমুখর করা ও অভিভাবকদের ব্যয় কমানো, সবার জন্য নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করায় জোর দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মিতব্যয়ী ও কল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়নের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে মিতব্যয়িতা এবং অপচয় কমানোরও নির্দেশনা দিয়েছেন।

সভায় বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাজেটে কী ধরনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, সে বিষয়েও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে অর্থমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া উদ্যোগ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রম, প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা, খাল খনন কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগের বিষয় তুলে ধরেন। তিনি কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির বিষয়েও অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশ, বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রশিক্ষণ খাতে বরাদ্দ এবং বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ, বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বাজেটে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের পুনর্গঠন ও সংস্কারের বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন। এ ছাড়া রেল ও নৌপরিবহন সেবা সম্প্রসারণ ও নিরাপদ করা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সভায় অর্থমন্ত্রী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেন। এর মধ্যে তিন লাখ কোটি টাকা ব্যয় হবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। এডিপিতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য। এরপর বিদ্যুৎ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হবে। বাকি অর্থ পরিচালন ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, ভর্তুকি এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

সভায় অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতিকে উচ্চতর প্রবৃদ্ধির ধারায় নেওয়া, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি খাতে সহায়তা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগ প্রতিবন্ধকতা দূর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সভায় অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এ ছাড়া বিনিয়োগ জিডিপির ৩১ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করা এবং রাজস্ব আয় জিডিপির ১০ দশমিক ১৭ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ৬৮ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্প
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন সেবা নিশ্চিত করতে ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রতিবন্ধীদের অধিকার, সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত-সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং বিস্তারিত তথ্য জানান।

একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা ও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে করণীয় নির্ধারণ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেশের প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য পরিচালিত স্কুলগুলো সঠিকভাবে চলছে কিনা– তা যাচাইয়ের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি হাসপাতাল, রেস্তোরাঁসহ সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো ও টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করতে ভবন নির্মাণ নীতিমালায় প্রয়োজনীয় বিধান অন্তর্ভুক্ত করতেও কর্মকর্তাদের বলেন।

প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ জেলার ১০ উপজেলায় এ প্রকল্প চালু করা হবে। সভায় উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো স্থাপন, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের জন্য যে ইলেকট্রিক বাস চালু করা হবে, সেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখতে হবে। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।  

সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর মায়ের দোয়া মাহফিলে  প্রধানমন্ত্রী
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মা বেগম জেবুন্নেছার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বুধবার আসর নামাজের পর গুলশানের আজাদ মসজিদে দোয়া মাহফিল হয়। 
 

আরও পড়ুন

×