পবিপ্রবি
ভিসির পদত্যাগ দাবিতে চতুর্থ দিনও অচল
নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তারে ভিসি ও প্রো-ভিসি দ্বন্দ্ব
উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা -সমকাল
পটুয়াখালী, দুমকী প্রতিনিধি ও পবিপ্রবি সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ০৮:৩৬ | আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ | ০৮:৫৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্যের (ভিসি) পদত্যাগ দাবিতে চলা শাটডাউন কর্মসূচি গতকাল বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল। উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের পদত্যাগ এবং ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি চলছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে শিক্ষক-কর্মকর্তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এ ছাড়া উপাচার্যের কার্যালয় ও বাসভবনে তালা লাগিয়ে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অচল এবং ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বিশ্বদ্যিালয়ের প্রক্টর ড. আবুল বশার খান, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ‘উপাচার্যের ইন্ধনেই বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। উপাচার্যের পদত্যাগ ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপ্লিট শাটডাউন চলবে।
হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
গত সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের ওপর হামলার ঘটনায় দুমকী উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম কিবরিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে থানা ব্রিজ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মুকিত মিয়া বাদী হয়ে ২৬ জনকে আসামি করে দুমকী থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে দুমকী উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব মো. রিপন শরীফকে।
নেপথ্যে ভিসি-প্রো-ভিসি দ্বন্দ্ব
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের দ্বন্দ্বের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামকে ‘জামায়াতপন্থি’ ট্যাগ দেওয়া হয়। অন্যদিকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম হেমায়েত জাহান ‘বিএনপিপন্থি’ হিসেবে পরিচিত। দুই পক্ষের রয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। দুজনের পক্ষে-বিপক্ষে রয়েছে জেলা-উপজেলার স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের কম্বাইন্ড ডিগ্রি নিয়ে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের এখন মুখ্য বিষয় উঠেছে এই অ্যানিমেল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের কম্বাইন্ড ডিগ্রি।
উপ-উপাচার্যপন্থিদের মতে, ভিসি কাজী রফিকুলের দুর্নীতি ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা করছেন। এমনকি অকারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা- কর্মচারীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে উপাচার্য পক্ষের ভাষ্যমতে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক বিষয়, জুলাই কর্নার, ডায়েরি-ক্যালেন্ডারসহ কয়েকটি অনিয়ম বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। এতে উপ-উপাচার্য পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে এবং বিষয়টি অন্যদিকে নিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে এমন কর্মসূচি পালন করেছে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অভিযোগ, উপাচার্য কাজী রফিকুলের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলন দমন এবং উপাচার্যকে সুরক্ষা দিতেই বহিরাগতদের দিয়ে এ হামলা চালানো হয়।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্তকে বিদায় নিতে হয়। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ড. কাজী রফিকুল উপাচার্য হিসেবে এবং ড. এসএম হেমায়েত উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শুরুতে দুজনের সম্পর্ক ভালোই ছিল। কিন্তু পরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
এ প্রেক্ষাপটে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য আলাদাভাবে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন করেন। তৎকালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইকতিয়ার হোসেনকে ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে উপ-উপাচার্যের অনুসারীদের দ্বারা লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটে।
উপ-উপাচার্য ড. হেমায়েত হজ করতে সৌদি আরবে গেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিশ্ববিদ্যালয়টি অস্থির করে রাখার চেষ্টা করছে। আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়টি ভালো রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু ওই স্বার্থান্বেষী মহলের অনৈতিক দাবি পূরণ করতে না পারায় আমার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
- বিষয় :
- পদত্যাগের দাবি
