গোলটেবিল বৈঠকে বক্তরা
বাজেট বরাদ্দ ব্যবস্থাপনা বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ২০:৫৩
জাতীয় বাজেট প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন ও তদারকি পর্যন্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তাদের মতে, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে বাজেটে প্রান্তিক মানুষের জন্য ন্যায্য বরাদ্দ নিশ্চিত করা জরুরি।
রোববার রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ের আজিমুর রহমান হলে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘জাতীয় বাজেটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায্য বরাদ্দ, অংশীদারত্ব, বাস্তবায়ন ও মনিটরিং’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)।
এতে এএলআরডির উপনির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ খান ও সোহরাব হাসান। তাছাড়া তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন রাজশাহী থেকে আফজাল হোসেন, সাতক্ষীরা থেকে কৃষ্ণপদ মুণ্ডা, চট্টগ্রাম থেকে এসএম নাজের হোসেন, বরিশাল থেকে শামসুল ইসলাম দিপু এবং হাওর অঞ্চল থেকে সেলেহীন চৌধুরী শুভ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সিআরডির গবেষণা দলের প্রধান গাজী সারওয়ার্দী জাতীয় বাজেটবিষয়ক সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে পারিবারিক কৃষি, গ্রামীণ নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, যুবসমাজ, নগর দরিদ্র এবং ভূমি-জলা-কৃষি সংস্কার খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে জাতীয় বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও জনগোষ্ঠী, এলাকা, নৃতাত্ত্বিক পরিচয় ও শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য কমাতে বাজেটের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো হচ্ছে না।
প্রতিবেদনে পারিবারিক কৃষকদের জন্য ১ লাখ ৯ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি কৃষক কার্ড নিশ্চিত করা, সরকারি শস্য ক্রয় বাড়ানো এবং গুদাম ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়।
গ্রামীণ নারীদের জন্য ১ লাখ ৪ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করে প্রতিবেদনে বলা হয়, নারী কৃষকদের জন্য কৃষি বীমা, ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল বিপণন সহায়তা বাড়াতে হবে।
এ ছাড়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য ৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ, বিশেষ আদিবাসী জনশুমারি পরিচালনা এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়।
যুব জনগোষ্ঠীর জন্য ৬১ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়ে প্রতিবেদনে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মমুখী শিক্ষা, ডিজিটাল দক্ষতা ও মানসিক স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
নগর দরিদ্রদের জন্য ২৩ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করে বলা হয়, আবাসন, স্বল্পসুদের গৃহঋণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে জোর দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, রাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হলেও তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক দুর্বল। তিনি বলেন, ‘সবার কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করা হলেও সবার জন্য সমানভাবে ব্যয় করা হয় না। তাই বাজেট ন্যায্যতার ভিত্তিতে বণ্টন করতে হবে।’
সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনকেন্দ্রীক হতে হবে। উন্নয়ণের মূল ভিত্তি হলো প্রকল্প। যার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত মানুষ। তৃণমূলের মানুষের অর্থই রাষ্ট্রের অর্থ।
বাজেট ব্যবস্থাপনায় বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো গেলে বাজেটেও ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে।
- বিষয় :
- বাজেট
- গোলটেবিল আলোচনা
