নারীবান্ধব কাঠামো গড়তে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৮:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের অগ্রগতিতে নারীর অবদান দৃশ্যমান হলেও কাঠামোগত অবস্থানে এখনও নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। এসব বাধা মোকাবিলা করেই নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। নারীবান্ধব কাঠামো গড়ে তুলতে সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। নতুন ও প্রবীণ প্রজন্মের চিন্তার দূরত্ব কমিয়ে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘নারী আন্দোলন অগ্রসরমানতার অন্বেষায় সংলাপ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে নারী আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি এবং এ আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
স্বাগত বক্তব্যে মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে নারী আন্দোলনের ধারা ও চ্যালেঞ্জও বদলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নারীর অগ্রসরমানতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রজন্মের নারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে।
বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় ভয়েজ অ্যান্ড ভিউজের জান্নাতুল ফেরদৌস আইভী বলেন, পরিবার ও সমাজে নারীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা না হলে সমতা অর্জন সম্ভব নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে ফাতেমাতুজ যোহরা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে নারী আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পূর্বসূরিদের অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রজন্মের ভাবনাকে একত্র করেই শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব।
সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উম্মে ফাতেমাতুজ যোহরা।
সভায় সংগীত পরিবেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আফরা আনতারা এবং উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত জাইমা। কবিতা আবৃত্তি করেন নুসাইবা আহমেদ।
নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ৮৫ জনের সংহতি
বাংলাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌন সহিংসতা ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে ৮৫ জন ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠন সংহতি জানিয়েছেন। গতকাল অগ্রযাত্রা নারী ফোরামের উদ্যোগে দেওয়া এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সংহতি প্রকাশকারীদের মধ্যে রয়েছেন খুশি কবীর, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ড. স্বপন আদনান, নঈম জাহাঙ্গীর, আলতাফ পারভেজ, ড. হালিম দাদখান, শরীফ জামিল, জাকিয়া শিশির, ব্যারিস্টার ফারাহ খান, শেখ রোকন, ড. কাজী মারুফুল ইসলাম, মাহা মীর্জা, সৈয়দ নিজারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, গবেষক ও অধিকারকর্মীরা।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, পারিবারিক সহিংসতা এবং অনলাইন-অফলাইন হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন থেকে ঘরোয়া পরিবেশ সবখানেই নারীরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। বিচারহীনতা ও নারীবিদ্বেষী মানসিকতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিবৃতিতে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতাকে মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের গভীর সংকট হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত বিচার, কার্যকর আইন প্রয়োগ, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালার বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
- বিষয় :
- নারী
